দশ বছরে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ১০ হাজার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪৩

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে সাজ সাজ রব। মণ্ডপ গড়ার প্রস্তুতি চলছে হিন্দু পাড়াগুলোতে। চলতি বছর ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ হবে বলে জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। প্রতিবছর বাড়ছে মণ্ডপের সংখ্যা। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের হিসাবে, গত বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি পূজামণ্ডপে পূজা উদ্যাপিত হয়। আর এ বছর বাড়ছে ১ হাজারের বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১০ বছরে ১০ হাজার মণ্ডপ বেড়েছে। ২০০৯ সালের দুর্গাপূজায় সারাদেশে ২১ হাজারেরও কম মণ্ডপ ছিল। তারপর থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বেড়েছে মণ্ডপের জৌলুস ও চাকচিক্য। মণ্ডপ গড়তে খরচের পরিমাণও বেড়েছে। রানা দাশগুপ্তের মতে, এখন প্রতিটি মণ্ডপ গড়তে গড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। তবে শহর এলাকায় এই খরচ অনেক বেশি। কোটি টাকা খরচ করেও মণ্ডপ হচ্ছে। প্রতিবছর মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরকার ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের অভিমত একেক রকম। সরকার বলছে, দুই কারণে বাড়ছে মণ্ডপ। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী বাড়ছে। বাড়ছে তাদের আর্থিক সংগতি ও সচ্ছলতা। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে প্রতিটি এলাকায় বাড়ছে পূজামণ্ডপের সখ্যা।

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সারাদেশে ২১ হাজারেরও কম পূজামণ্ডপ ছিল। এখন সেটা বাড়তে বাড়তে ৩০ হাজারের বেশি হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, পূজামণ্ডপ বাড়লেও পূজার্থীর সংখ্যা কমছে প্রতিবছর। প্রতিবছর মণ্ডপ বাড়ার কারণ হলো রাজনীতি। নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। আগে একটি পাড়ায় একটি মণ্ডপ গড়া হতো। এখন যারা নেতা হতে চাইছেন, তারা আলাদা আলাদা মণ্ডপ গড়ছেন। তাদের লোকজন সেখানে পূজা দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা কমছে।

এদিকে দুর্গাপূজায় দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকার ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ করে আসছে গত কয়েক বছর ধরে। গত বছর ৬৪ জেলায় ৫০০ কেজি হারে ১৫ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার এর পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক নেতা। তবে রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, খয়রাতি হিসাবে এই চাল দেওয়া হচ্ছে। এটা খুদ-কুড়ো ছিটানোর মতো। সরকার এটা লোকদেখানোর জন্য করে। মণ্ডপগুলোর কর্ণধারদের উচিত এটা না নেওয়া। 

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার কমপক্ষে ১ হাজার পূজামণ্ডপ বাড়বে। ঢাকা মহানগরীতে ২৩৭টি পূজামণ্ডপ বাড়ছে। পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।