‘আয় আয়’ ডাক শুনে জঙ্গল থেকে আসে খ্যাঁকশিয়াল

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯

পাউরুটি বিস্কুট খেয়ে চলে যায়

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

আয় আয় ডাক শুনলে জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসে একটি খ্যাঁকশিয়াল। এরপর চায়ের দোকান থেকে দেওয়া পাউরুটি বিস্কুট খেয়ে জঙ্গলে ফিরে যায়। প্রতিদিন নিয়মিত সকালসন্ধ্যায় এসে হাজির হয় শিয়ালটি। এমন ঘটনাটি ঘটছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গরুহাটের পাশের একটি চায়ের দোকানে। কারো কামড় দেয় না, আঁচড়ও মারে না।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, খ্যাঁকশিয়াল নিশাচর মাংসাশী প্রাণী। এদের প্রধান খাবার মৃত প্রাণীর দেহ। মাছ, শামুক, গাছ থেকে পড়া পাকা আম, কাঁঠাল, তাল প্রভৃতি। পাউরুটি বিস্কুট খাওয়া ব্যতিক্রম ঘটনা। চায়ের দোকানের এক পাশে শৈলকুপা ফায়ার স্টেশন ও আরেক পাশে বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সঙ্গে আছে ছোট্ট একটি ঝোঁপ। খ্যাঁকশিয়ালটি ঝোঁপের ভেতর গর্তে বাস করে। আশপাশে শিয়ালের খাবার মতো কিছু নেই।

চায়ের দোকানদার আওলাদ হোসেন জানান, প্রায় মাস পাঁচেক খ্যাঁকশিয়ালটি খাবারের জন্য তার দোকানে আসছে। সকালে দোকান খোলার পর আয় আয় ডাক দেন। এরপর শিয়ালটি এসে হাজির হয়। কোনো সময় দোকানের ভেতর উঠে বসে। আবার দোকানে চা খেতে আসা খরিদদারের পায়ের কাছে ঘোরাফেরা করে। পাউরুটি ও বিস্কুট দিলে বসে খেয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে যায়। তবে সবসময় ভিতু থাকে। চতুর এ প্রাণী চারিদিকে সতর্কদৃষ্টি রাখে।

এদিকে দলছুট একটি কালোমুখো হনুমান খাবারের সন্ধানে শৈলকুপা শহরের দোকানে দোকানে ঘোরেফেরে। কখনো দোকানের ভেতর ঢুকে শান্তভাবে বসে থাকে, হিংস্রতা নেই। দোকানদার খাবার দিলে খেয়ে চলে যায়।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, মাংসাশী প্রাণী খ্যাঁকশিয়াল ক্ষুধায় কাতর হয়ে বিস্কুট পাউরুটি খাচ্ছে। প্রকৃতি থেকে খাবার না পেয়ে খ্যাঁকশিয়ারের স্বভাবের পরিবর্তন বলা যায়। হনুমানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তিনি আরো বলেন, মানুষও এখন বন্যপ্রাণিকে মারে না বা অত্যাচার করে না। তাদের প্রতি সদয় হয়েছে।