ঋতু

উত্সবের আগমনী বার্তা বয়ে আনে শরত্

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৮

 

গ্রাম বাংলায় উত্সবের আমেজ নিয়ে শরতের আগমন। ভাদ্র মাসে মিষ্টি আলোর স্পর্শ নিয়ে প্রকৃতির কানে কানে ঘোষণা দেয় শরতের আগমন বার্তা। নীল আকাশে শিমুল তুলোর মতো ভেসে চলে সাদা মেঘ, ফুলের শোভা আর শস্যের শ্যামলতায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে শরত্। নদীতীরে সাদা কাশফুল, গাছে গাছে হাসনুহেনা আর বিলের জলে নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকে সাদা ও লাল শাপলা—সব মিলিয়ে শরত্ শুভ্রতার ঋতু। শরতের আগমনে বাংলার বন-উপবন দোয়েল-কোয়েল-ময়নার কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। চারদিকে সজীব গাছপালার ওপর বয়ে যায় শেফালি ফুলের গন্ধভরা ফুরফুরে মিষ্টি হাওয়া। শিউলিতলায় হালকা শিশিরে ভেজা দূর্বাঘাসের ওপর চাদরের মতো বিছিয়ে থাকে শিউলিফুল। আমন ধানের সবুজ চারার ওপর ঢেউ খেলে যায় উদাসী হাওয়া। ফসলের মাঠের একপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর তীরে কাশবনের সাদা কাশফুল কখনো হাতছানি দিয়ে ডাকে। কাশফুলের মনোরম দৃশ্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না। শরত্কালে রাতের বেলায় জ্যোত্স্নার রূপ অপরূপ। শরত্ মানেই গাছে পাকা তাল—সেই তাল দিয়ে তৈরি পিঠা, পায়েস  আর মাঠে মাঠে আমন ধানের বেড়ে ওঠা চারা। শরতের সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে করে রূপময়। এই সৌন্দর্যের জন্য শরত্কালকে ঋতুর রানি বলা হয়। মাঠভরা সোনা ধান দেখে কৃষকের মনে দানা বাঁধে সুখের স্বপ্ন। শরেক নিয়ে কবিতা লেখেননি, এমন কবি বিরল।

আশ্বিন মাস কাশের গুচ্ছ, শিউলির ঘ্রাণ আর আকাশের সাদা মেঘের ভেলা সবকিছুই যেন দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা শরতেই উদ্যাপিত হয়। তাই একে বলা হয় শারদীয় উত্সব। ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি ও আরতিতে মুখরিত হয় পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম। শরত্ বাঙালির উত্সবের বার্তাবহ। শরত্ বাংলাদেশকে উত্সবের আনন্দে হাসিয়ে এবং বিসর্জনের বেদনায় কাঁদিয়ে বিদায় নেয়।