জাহাজশিল্পে বাংলাদেশের সামনে যে অযুত সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। গত কয়েক বছরে জাহাজশিল্পে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জার্মানি ও লেদারল্যান্ডসের মতো সর্বোচ্চ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশে বাংলাদেশের জাহাজ রপ্তানি হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ করে প্রতি বছর ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় সম্ভব বলে মনে করছে সরকার। সম্ভাবনাময় এ খাতকে সহায়তা দিতে একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ উপকূলীয় সীমারেখা ছাড়াও প্রায় ২০০ ছোটো-বড়ো নদ-নদী রয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য কয়েক হাজার কিলোমিটার। উপকূলীয় অঞ্চলে নৌযান তৈরিতে ২০টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ১০০ স্থানীয়মানের শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসমপন্ন শিপইয়ার্ডগুলো বছরে গড়ে ১০০ জাহাজ নির্মাণে সক্ষম। বর্তমানে ১০ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসমপন্ন জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে। জাহাজ নির্মাণে বিশ্বের শীর্ষ দুই জাহাজ নির্মাণকারী দেশ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাংলাদেশেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নদ-নদীর এই দেশে অসংখ্য জাহাজ নির্মাণ কারখানা সহজে স্থাপন করা সম্ভব। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে বাংলাদেশে সস্তা শ্রম থাকায় স্বল্প খরচে জাহাজ নির্মাণের সুবিধা রয়েছে। জাহাজ নির্মাণ খাতে সরকার প্রণোদনা দিলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
শুভ্র ঘোষ
নতুন বাজার, কলকলিয়াপাড়া, মাগুরা
