নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের আলোচনা সভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগ এবং তার বিপ্লবী ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, প্রীতিলতা দেশের জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করে মুক্তিকামী মানুষের আদর্শের দিশারী হয়েছেন। যতদিন এ পৃথিবী থাকবে ততদিন তার আদর্শ চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের প্রথম নারী আত্মদানকারী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৮৭তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রীতিলতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে আত্মদারকারী প্রীতিলতাসহ সকল বীর শহিদদের জীবন সংগ্রাম ও আদর্শকে তরুণ সমাজের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। তবেই সার্থক হবে তাদের আত্মদান।
আয়োজক সংগঠনের প্রকাশনা সম্পাদক শরীফা বুলবুল বলেন, সে দিন নিজের জীবন উত্সর্গ করে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন করেছিলেন এই বীর নারী। তার আদর্শ আর মহান দেশপ্রেমে তিনি নিজের জীবন দেশ মাতৃকার জন্য বিসর্জন দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আত্মাহুতির এত বছর পরও রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্মৃতি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সাংবাদিক শাহনাজ পারভিন বলেন, ব্রিটিশের শোষণ থেকে দেশকে এবং দেশের মানুষকে মুক্ত করতে স্বাধীনতার জন্য প্রীতিলতা জীবন দিয়েছিলেন। তার অবদান আমরা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি। সভায় বক্তারা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্যসেন, বীরকন্যা প্রীতিলতাসহ সকল বীর সেনানীদের স্মৃতি বিজড়িত ইউরোপিয়ান ক্লাবকে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, মাস্টার দা সূর্যসেনের নির্দেশে ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেন প্রীতিলতা। প্রায় ৫৩ জন ইংরেজকে মারাত্মকভাবে আহত করে ফেরার সময় প্রীতিলতার গায়ে একটি গুলি লাগে। ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি নিজের পকেটে থাকা পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহনন করেন।
