জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ

পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ হলে পুরো বিশ্বকে ভুগতে হবে :ইমরান

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৯

ইমরান খান বলেছেন, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ হলে পুরো বিশ্বকে ভুগতে হবে। কারণ একটি দেশকে যখন তার চেয়ে সাত গুণ বড়ো প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে হয় তখন দুইটি পথ থাকে, হয় আত্মসমর্পণ অথবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য লড়াই। তখন আমরা কী করব? আমি নিজেকেও একই প্রশ্ন করেছি। আমার বিশ্বাস এক আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই এবং আমরা লড়াই করব। তার দাবি, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কারফিউ উঠে গেলে সেখানে ব্যাপক রক্তপাত হবে। কাশ্মীর নিয়ে ইমরানের বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত। দেশটি বলেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি যুদ্ধবাদিতার পরিচয় দেয়, রাষ্ট্রনায়কত্বের নয়। কাশ্মীরে ভারত যখন মূলধারার উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, পাকিস্তান তখন সন্ত্রাসবাদকে উত্সাহিত করছে। এদিকে ইমরান খানের ভাষণের পর জম্মু ও কাশ্মীরে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ ভাষণে কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইমরান খান। সেই ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় ৫০ মিনিট দীর্ঘ তার ভাষণের বড়ো অংশজুড়ে ছিল কাশ্মীর পরিস্থিতি। ইমরান খান বারবারই বলতে চেয়েছেন, ভারত শাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করে গত প্রায় দুই মাস ধরে ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে যেভাবে ‘পশুর মতো’ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে—তা যেকোনো সময় বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে পাহারা দিয়ে রেখেছে ৯ লাখ ভারতীয় সেনা। কারফিউ উঠে গেলে কী হবে? কাশ্মীরিরা কী চুপচাপ তাদের মর্যাদার এই পরিবর্তন মেনে নেবে? কারফিউ উঠে গেলে রক্তবন্যা বয়ে যাবে। কাশ্মীরি তরুণরা বিক্ষোভ করলে ভারতীয় সেনারা কী করবে? তারা তাদের দিকে গুলি ছুড়বে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এজন্য ভারত হয়তো পাকিস্তানকে দায়ী করবে। তেমন কিছু হলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা নাকচ করা যায় না। আর যুদ্ধ হলে ছোটো দেশ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার ছাড়া পাকিস্তানের কোনো বিকল্প থাকবে না। ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর জাতিসংঘের জন্য বড়ো পরীক্ষা। জাতিসংঘের মনে রাখা উচিত, ১৯৩৯ সালে ইউরোপ হিটলারের অপরাধকে গুরুত্ব দেয়নি বলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ করে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরএসএস নামে যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আজীবন সদস্য, সেই সংগঠনের ‘আদর্শ হচ্ছে হিটলার এবং মুসোলিনি’ এবং ঐ আরএসএস-ই মাহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল। তিনি তার ভাষণে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও পশ্চিমা দুনিয়ায় ইসলামফোবিয়ার কথাও তুলে ধরেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, ইমরান খানের বক্তব্য উসকানিমূলক এবং পুরোপুরি মিথ্যা। ভাষণের পর উত্তর দেওয়ার অধিকারের সুযোগ নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের কূটনীতিক বিদিশা মৈত্র বলেন, ইমরান খান জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মের ‘অপব্যবহার’ করেছেন। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ‘গণহত্যা’ ‘জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব’ আমৃত্যু লড়াই’ এ ধরনের শব্দ ব্যবহার মধ্যযুগীয় মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পাকিস্তান কী এটা নিশ্চিত করবে যে তাদের মাটিতে ২৫টি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং ১৩০ জন সন্ত্রাসী রয়েছে যারা জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত। তিনি বলেন, যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে সুগঠিত শিল্পে পরিণত করেছে, সেই দেশ নিজেকে মানবাধিকারের নয়া দূত হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। আমরা আপনাকে অনুরোধ করব ইতিহাস সম্পর্কে আপনার বোঝাপড়া আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যা এবং লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা ভুলে যাবেন না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আজ বিকালেই (শুক্রবার) আমাদের এই সত্যটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ভারতের জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য কাউকে প্রয়োজন নেই, অন্তত তাদের তো নয়ই যারা ঘৃণার মতাদর্শ দিয়ে সন্ত্রাসবাদের কারখানা গড়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে ইমরান খানের ভাষণের পর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লোকজনের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে রাস্তায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। খবর:ডন, বিবিসি, এনডিটিভি ও রয়টার্সের।