গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয় পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ১১ জনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে কেক কাটা, আনন্দ মিছিলসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তত ৪০ জন আহত হয়। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, সংঘর্ষে আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১১ জনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক চিকিত্সক জানান, চিকিত্সা গ্রহণকারী আহতদের অধিকাংশই রাবার বুলেটে আহত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমরা দুই গ্রুপকে বলেছিলাম আলাদা রাস্তায় গিয়ে জন্মদিন পালন করতে। কিন্তু ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা একই স্থানে মিছিল করতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছয় জন সদস্য আহত হন। কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মাদারীপুর মডেল থানায় এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।
লোহাগড়ায় নারীসহ দুই জন আহত
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা জানান, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে এবং কলেজের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়, ভাঙচুর চালানো হয় দুটি বাড়িতে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের বিলুপ্ত ছাত্র সংসদের ভবনে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের বসাকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুন্সী জোসেফ হোসেন সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক এম এম রাশেদ হাসান সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গতকাল শনিবার দুপুরে যুবলীগ নেতা ছোটো আশরাফের নেতৃত্বে আবুজার, রুমানসহ ১০/১২ জন কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী শান্ত শেখকে মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে আকাশ নামে অপর এক শিক্ষার্থী প্রতিপক্ষের মারধরের শিকার হয়। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাসে সুদীপ্ত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার জেরে বহিরাগত শাওন ও হালিম ভুইয়ার বাসাবাড়িতে ভাঙচুর চালায় প্রতিপক্ষ। এরপর মদিনাপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা হূদয়কে বাসায় না পেয়ে তার মা পারুল বেগমকে (৩৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহতদের লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
