ছোটোদের সাফের ঘটনাবহুল ফাইনাল
বাংলাদেশ ১-ভারত ২
স্পোর্টস রিপোর্টার
ছোটোদের সাফও এমন ঘটনাবহুল হতে পারে! হলুদকার্ড, লালকার্ড হাতাহাতি, মারামারি সবই হয়েছে। নেপালের কাঠমান্ডুর মাঠে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফাইনালে বাংলাদেশ ১-২ গোলে ভারতের কাছে হেরেছে। ভারতের প্রথম শিরোপা এটি। তবে এই ফাইনাল ছোটোদের সাফের স্মরণীয় ফাইনাল হয়ে থাকল। বাংলাদেশ হারলেও ভারতের চেয়ে কোনো অংশে কম ভালো খেলেনি। শারীরিক সামর্থ্য বাংলাদেশের ফুটবলারদের চেয়ে ভারত এগিয়ে থাকলেও টেকনিক আর ট্যাকটিস খুব একটা মন্দ ছিল না। পাশ মার্ক পেয়ে উতরে যাওয়ার মতো পারফরম্যান্স করেছেন। তবে কাঠমান্ডুর হলচুকের মাঠে হওয়া এই অনূর্ধ্ব-১৮ তৃতীয় সাফের ফাইনাল অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল।
দুর্ভাগ্য হচ্ছে—খেলার শুরুতেই আচমকা একটি গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে লাফিয়ে উঠে বলটা নামিয়ে ডান পায়ে দারুণ একটা গোল করেছেন ভারতীয় স্ট্রাইকার ভিকরাম ১-০। গোল হজম করেও বাংলাদেশের হূদয়, জামির, তানভীর, ফাহিম মেরাশেদ, আরাফাত ইয়াসিন, মারাজ হোসেন, আমির বপ্পীরা গর্জে উঠেছিলেন। গোল ফিরিয়ে দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা বাংলাদেশের কপালে দুর্ভাগ্য নেমে আসে। মাঝমাঠে ভারতীয় ফুটবলার পড়ে গেলে বাংলাদেশের আরেক ফুটবলার কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন। এই নিয়ে ভারতীয় ফুটবলার এবং বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। মাঝমাঠের উত্তেজনা গড়িয়ে সাইড লাইনে আসে। সেখানে ভারতীয় ফুটবলারদের রোষানলে পড়েন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। হাতাহাতি হলেও জয়টলায় কে কাকে আঘাত করেছে তা পরিষ্কার বোঝ যায়নি ইন্টারনেটের বদৌলতে দেখা খেলায়। নেপালি রেফারি তার সহকারী রেফারির সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের ফাহিম এবং ভারতের গুরকিতাকে লালকার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করেন। ১০ করে নিয়েও বাংলাদেশ এবং ভারতীয় কিশোর ফুটবলারদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। এই দুই দেশের কিশোর ফুটবলাররা জানে দুই বছর আগে ভুটানের থিম্পুতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৩ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যেন ছোটোদের সাফের দুই শত্রু। ফাইনালে ট্রফি জয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা ভারত এবং বাংলাদেশ উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ প্রথমার্ধেই গোল শোধ করার সুযোগটা কাজে লাগিয়ে খেলায় সমতা আনল। স্ট্রাইকার ফাহিমের কর্নারের বল আরেক পা হয়ে অধিনায়ক ইয়াসিন আরাফাতের পা স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের জালে জড়িয়ে দেন ১-১। জাতীয় দলের ডাক পাওয়া এই ইয়াসিন আরাফাত গোল করেই উত্তেজনায় নিজের গায়ের জার্সি খুলে উঁচু করে মুখ ঢেকে ফেলেন। এই অপরাধে নেপালি রেফারি ইয়াসিন আরাফাতকে দুই হলুদ কার্ডে লালকার্ড দেখান। এই নিয়ে অন্যান্য ফুটবলার বারবার বলছিলেন জার্সি খুলে ফেলেনি। মুখ ঢেকে ছিল। কোনো কথা শোনেনি রেফারি। দুই দফায় লালকার্ডের পর বাংলাদেশের ৯ জনের বিপক্ষে ভারতের ১০ জন। ভারত সুযোগ পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। খড়কুটোর মতো উড়ে না গিয়ে জীবন রক্ষায় লড়াই করেছেন ফুটবলাররা। খেলা শেষে ইনজুরি টাইমে ভারত গোল করে ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ভারত চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ রানার্সআপ, মালদ্বীপ তৃতীয়, ফেয়ার প্লে ভুটান, ২ গোল করে বাংলাদেশের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
