আলিম-উর-রহিম
বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন কার? বঙ্গবন্ধুর পর খাঁটি অর্থে যিনি এদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ও দেখাচ্ছেন তিনি তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাঁটি অর্থে বললাম এই কারণে, ৭৫-এর পরবর্তী আরো অনেক রাষ্ট্রনায়ককে আমরা পেয়েছি। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো এমন নতুন ধারার রাষ্ট্রনায়ক আমরা আর কাউকে পাইনি। তার ডিজিটাল বাংলাদেশের উপকারভোগী আজ আপনি-আমি সবাই।
আমার এখনো মনে আছে, ২০০৯ সালের কথা যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। আমার স্কুলের স্যাররা এবং আমরা প্রায়ই ক্লাসে বলাবলি করতাম, এই ডিজিটাল বাংলাদেশ আবার কি জিনিস? বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে কীভাবে? আমার জানামতে তখন এই আলোচনা সব জায়গাতেই হতো। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, চায়ের দোকানসহ সব জায়গাতেই। সেদিনের সেই আলোচনা আর বর্তমানে আমরা যে বাংলাদেশকে দেখছি তা সত্যিই বিস্ময় জাগানিয়া! শহর, গ্রাম দুই জায়গাতেই উন্নয়ন দৃশ্যমান। শহরের চেয়ে গ্রামের উন্নয়ন চোখে পড়ে বেশি। ৪ হাজার ৫৬২টি ইউনিয়নের একটি ইউনিয়ন রোয়াইল বাড়ী। রোয়াইল বাড়ী ইউনিয়নের রাজনগর গ্রাম। এই গ্রামটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। আগে এখানে দিনের পর দিন বিদ্যুত্ থাকতো না। গ্রামে সারা বাজার খুঁজলেও একটা কম্পিউটারের দোকান পাওয়া যেত না। গ্রামের রাস্তাঘাট ছিল স্বাভাবিকভাবেই মাটির। যদিও বৃষ্টির মৌসুমে সে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা একেবারে বিপত্সংকুল হয়ে পড়তো। সামান্য একটা সাইকেল নিয়ে যাওয়াও ছিল কঠিন কাজ। সেই রাজনগর গ্রামের চিত্র এখন পালটে গেছে। এবার অনেকদিন পর বাড়ি গিয়ে (রাজনগর আমার নিজের গ্রাম) আমার চোখের সামনে সব সত্য যেন জ্বলজ্বল করছিল। প্রথম সত্য, বিদ্যুত্ থাকে না, না; বিদ্যুত্ তেমন যায়-ই না। কখনো-বা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চলে আসে। দ্বিতীয় সত্য, মাটির কাঁচা রাস্তা পিচের রাস্তা হয়ে যাচ্ছে। তৃতীয় সত্য, গ্রামের বাজারে কম্পিউটারের দোকান একটা নয় কয়েকটা আছে। তাছাড়া ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র আছে। এরকম অজস্র উন্নয়নের কথা চতুর্থ সত্য, পঞ্চম সত্য ইত্যাদি আকারে তুলে ধরা যাবে। সবচেয়ে বড়ো কথা, গ্রামের মানুষের চেহারায় একটা সুখ সুখ ভাব। মানুষের হাতে টাকা আছে। গ্রামের সবার হাতেই এখন মোবাইল। অনেকের হাতে স্মার্টফোনও আছে। সেই স্মার্টফোন দিয়ে তারা বিদেশে থাকা আপনজনের সঙ্গে কথা বলছে ভিডিও কলে। বিদেশ থেকে টাকাও আসছে এই মোবাইলেই। এ তো গেল একদিকের কথা। অর্থাত্ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে শহর, গ্রাম এক কাতারে মিলবে। এরকমই একটি নতুন ভাবনা ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। শহরের মানুষরা নাগরিক সুবিধা পাবে, গ্রামের মানুষরা পাবে না; তা হবে না। তাই নতুন এই ভাবনায় গ্রামের মানুষরাও শহরের মানুষের মতো নাগরিক সুবিধা পাবে। এই ভাবনাটিও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর।
তবে কথা হলো, দেশে এই যে উন্নয়ন হচ্ছে বা সামনে আরো হবে তাতে আমাদের অংশগ্রহণ কতটুকু? সবিস্তারে বললে, আমরা কি বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না? একটা সময় মোবাইল সহজলভ্য ছিল না, ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিল না। এখন মোবাইল, ইন্টারনেট সহজলভ্য। সামনে হয়তো আরো সহজলভ্য হওয়ার প্রত্যাশা রাখে। এই মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা কি আমাদের মেধাকে সঠিকরূপে কর্ষণ করছি? আর তাই যদি করি তাহলে আমরা কি করে গুজবের সৃষ্টি ঘটাই? গণপিটুনির মতো ঘটনার জন্ম দেই? কেননা গুজব, গণপিটুনির হোতা আমরা মানুষরাই। ভিনগ্রহের কোনো এলিয়েন নয়। প্রশাসনের জোর তত্পরতায় গণপিটুনির ঘটনা বন্ধ হয়েছে ঠিক। কিন্তু আমরা (হতে পারে এর সঙ্গে জড়িত কিংবা জড়িত নই) কয়জন নিজে থেকে আত্মোপলব্ধি করেছি যে, এমন ঘটনা ঘটানো কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের গণপিটুনির প্রত্যেকটি ঘটনাই আমাদের মানুষ পরিচয়কে কলঙ্কিত করেছে। সরকারকে দেশকে এগিয়ে নিতে স্বপ্ন দেখতে হবে। আইন কঠোর করে আমাদের থামাতে হবে। সব কিছু সরকারকেই কেন করতে হবে? আমাদের কি কিছু করার নেই? আমাদের এই প্রাণের দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা কে কে স্বপ্ন দেখতে পারি? আমি বিশ্বাস করতে চাই, আমরা সবাই পারি।
n লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,
গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
