৭০ শতাংশ প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় না

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১১

এটা অগ্রহণযোগ্য :পরিকল্পনামন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় না, এ বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক এক কর্মশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহর দেওয়া ‘৭০ শতাংশ প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় না’ এমন তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা সুশাসন অবশ্যই চাই। তবে, সুশাসন আলাদা বিষয় নয়। সুশাসনের জন্য সার্বিক একটি পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হবে, তখনই সুশাসন অর্জন করা সম্ভব হবে। সুশীল সমাজ, সচেতন মানুষ প্রতিনিয়তই বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকল্পের কাজে কোনো লুকোচুরি করবে না। সরকার চাইবে, সরকারের প্রতিটি কাজ জনগণের নজরে আসুক এবং জনগণ সেগুলো পরীক্ষা করুক। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যারা আছেন তারা সবাই জানেন যে প্রতিটি কাজে জনগণ, সরকারের সৃষ্ট নিয়মকানুনকে প্রতিপালন করে আমরা কাজ করি। আমরা খোলামেলা পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করব। তবে নেতিবাচক যে ধারণা আছে, সময়মতো কাজ হয় না, দেরি হয়, দুর্নীতি হয়—সেগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে দূর করতে পারব।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি। আমরা বরাদ্দ দিই, পাস করে দিই। আপনারা যারা কাজ করেন, আপনাদের গাড়ির প্রয়োজন, বসার প্রয়োজন, সেটা জনগণের অর্থ দিয়ে আমরা করে দিই। এর বিনিময়ে আমরা যখন কাজ পাই না, তখন ব্যথা পাই। আপনাদের হয়তো জনগণের মুখোমুখি হতে হয় না। কিন্তু আমাদের প্রতিনিয়িত মুখোমুখি হতে হয়। আপনারা দেখছেন, এখানেও আমি প্রতিনিয়ত সংস্কার করে যাব। যাতে করে আমাদের বর্তমান কাজের মান ও পরিমাণ দুটোই বৃদ্ধি পায়। প্রধানমন্ত্রী সংস্কারে বিশ্বাস করেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সংস্কারে হাত দিয়েছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মান উন্নয়নের মাধ্যমে কেনাকাটায় ব্যয় আরো কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি মিয়াং টিমবন। তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ে বাংলাদেশের বছরে ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ৪৫ শতাংশ। এই ব্যয়ের মাত্র এক শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করে চার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় বা আড়াই হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, কার্যকর ও দক্ষ সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী সরকারি বাস্তবায়ন সংস্থা ও দক্ষ ক্রয় কমিটি থাকা দরকার। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ—প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ক্রয় ব্যবস্থাপনা পরিবেশে উন্নতির জন্য গত একদশকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এখন আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি। আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা থাকে ক্রয় প্রক্রিয়ার। যে কোনো একটি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণেই বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। এর পরের ধাপে খরচ হয় ক্রয়প্রক্রিয়ায়।