কৃষিপণ্যসহ ঘরবাড়ির ক্ষতি বাড়ছে
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ও রাইখালী এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বন্যহাতির পাল। এতে খেতের ফসল বিনষ্টের সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ির ক্ষতি বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় বন বিভাগ সূত্র জানায়, সংরক্ষিত বনএলাকা কমে যাওয়া এবং পাহাড়ে খাদ্যের সংকটের কারণে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বন্যহাতির দল।
গত কয়েকদিনে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার গ্রামসমূহে এবং নিকটস্থ কাপ্তাইয়ের ডংনালা ও চন্দ্রঘোনাসহ ৮/১০টি গ্রামের দিকে হানা দিয়ে হাতির দল। কৃষকের খেতখামারের ফসল এবং গাছপালা ভেঙে নষ্ট করে। বন্যহাতি মানুষের ওপরও আক্রমণ করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টায় রাইখালীর ডংনালা গ্রামের নিজবাসার সামনেই বন্যহাতির আক্রমণের শিকার হন রাইখালী গ্রামের জনৈক মো. নাছির উদ্দিন (৪২)। হাতির আক্রমণে তিনি মাথা, বুকে ও পিঠে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করেন।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ডংনালা বাজারে দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে বন্যহাতির আক্রমণের শিকার হন লামারপাড়া গ্রামের ছোথোয়াইপ্রু মারমার ছেলে রেমংপ্রু মারমা (৪০)। পাশের জঙ্গল থেকে অতর্কিতে বন্যহাতি তার ওপর আক্রমণ করে। এ সময় তার আর্তচিত্কারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসলে হাতি পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ডংনালা গ্রামের অংজাবাই মারমা বলেন, সন্ধ্যা নামলেই পাহাড় থেকে বন্যহাতিরদল লোকালয়ে ছুটে আসছে। রাইখালী ডংনালা, তংসিপাড়া, হাতিমারা, মুখপাড়া, খাসিভাঙ্গা, কোদালা, শিলক, কারিগড়পাড়া, রাইখালীসহ একাধিক গ্রামে বন্যহাতির আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিরাতে গ্রামের কৃষকদের বাগানের কলা, জাম্বুরা, কচি বাঁশকোঁড়ল, মসল্লা জাতীয় আদা হলুদসহ বিভিন্ন জাতের ফসল খেয়ে এবং পায়ে পিষ্ট করে নষ্ট করে ফেলছে। বন্যহাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে গ্রামগুলোতে, বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে এবং ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করে চলেছে। গ্রামবাসী জানায়, দলছুট একটি বন্যহাতি সরাসরি মানুষের ওপর প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে। পাশের জঙ্গলে অবস্থান নিয়ে রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করে।
রাঙ্গুনিয়া কোদালা ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জুয়েল জানান, কোদালা বড়খোলা, ঘইন্যাখোলা, হাতিমারা, শিলক ও চা-বাগান এলাকায় বন্যহাতির দল উত্পাত করছে। ফসল খেয়ে সাবাড় করা ছাড়াও লোকালয়ে ঘরবাড়ি নষ্ট করছে। হাতির ভয়ে গ্রামের মানুষের বসবাস বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রামের মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পদুয়া ইউনিয়নের জঙ্গলের নিকটস্থ লোকালয় এবং কৃষি খামারগুলোতে বন্যহাতি উত্পাত করছে।
রাইখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, গত কয়েকদিনে বন্যহাতিরদল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কৃষকের হাজার হাজার টাকার কৃষিপণ্য নষ্ট ও সাবাড় করে ফেলছে। রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে হাতিরদল। লোকালয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করলেও হাতির উত্পাত বন্ধে বনবিভাগের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষের সম্পদ রক্ষায় বনবিভাগ তথা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, হাতির উত্পাত বন্ধে বনকর্মী সচেষ্ট রয়েছেন। কিন্তু লোকবল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে আক্রমণ প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়েছে।
কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগীয় কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, কাপ্তাইয়ের বন্যহাতির উত্পাত দমনে বিভিন্ন বিটের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে। তবে সীমিত লোকবল এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে বন্যহাতির উত্পাত যথাযথ প্রতিরোধ সম্ভব হয়ে উঠছে না।
