কোন পথে সমাধান?

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩০

তৌহিদ আজিজ

 

হংকংয়ের সংকট যেন কোনোভাবেই কাটছে না। দিন যতই যাচ্ছে এই সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী              ক্যারি লাম বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের মুখে বিতর্কিত অপরাধী প্রত্যার্পণ বিল বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু তার পরেও এই সংকট যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই আছে। বিক্ষোভকারীরা এখন গণতান্ত্রিক সংস্কার ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে।

গত শনিবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে হংকং। এদিন পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভ দমাতে কাঁদানে গ্যাস, মরিচের গুঁড়া ও জলকামান ব্যবহার করে। হংকংয়ের নামকরা একটি শপিং সেন্টারের কাছে এদিন তারা বিক্ষোভ করে। ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কায় বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল। এমটিআর মেট্রো সার্ভিস জানায়, তারা বেশকিছু সেবা এদিন বন্ধ রাখেন। বিক্ষোভকারীরা সে সময়ে নানা সরকার বিরোধী স্লোগনা দেন। তবে এদিন সেখানে চীনপন্থি বিক্ষোভকারীদেরও দেখা যায়। তারা ভিক্টোরিয়ায় তপ্ত রোদে চীনের জাতীয় সংগীত গেয়ে পাল্টা বিক্ষোভ করে। ২০০ লোক লাল টি-শার্ট পরে সমবেত হয়। চীনের জাতীয় সংগীত গাওয়ার পাশাপাশি স্লোগান দেয় ‘আমরা চীনকে ভালোবাসি’। অ্যাঞ্জেলা (৪০) নামে এক গৃহবধূ যার মুখে আঁকা ছিল চীনা পতাকা। তিনি জানান, গণতন্ত্রপন্থিরা যে আন্দোলন করছে বাস্তবিক অর্থে তারা সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী গোষ্ঠী। তারাই এই বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এদের বিরুদ্ধে মারাত্মক কোনো অভিযানে যায় তাহলে তাদের কিছুই বলার থাকবে না। কারণ, এটা কোনোভাবেই গণতন্ত্রপন্থিদের আন্দোলন হতে পারে না। অপরদিকে হংকংয়ের চলমান বিক্ষোভ     নিয়ে গণতন্ত্রপন্থিরা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে চীনপন্থিদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রকারান্তরে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলা হচ্ছে। কেননা এর ফলে সংঘাত ও রক্তক্ষয় আরো বেড়ে যাবে।

এবার প্রশ্ন জাগতে পারে কী করে হঠাত্ এত বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠলো হংকং। ঘটনার সূত্রপাত গত বছরে। তাইওয়ানে ছুটি কাটাতে এসে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ উঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় ওই ব্যক্তিকে আর তাইওয়ানে ফেরত পাঠানো যায়নি। এতে করে নীতি নির্ধারকদের মনে প্রশ্ন জাগতে থাকে যে এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে হংকং অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়ে যাবে। আর এরপরই হংকংয়ে বন্দি বিনিময় তথা অপরাধী প্রত্যার্পণ বিলটি পাশ হয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে হংকংয়ের সাধারণ মানুষ।

তাদের মতে, উদ্দেশ্য মহত্ হলেও ভবিষ্যতে চীন একে তাদের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের রোষানলে পড়বে। তাই এ নিয়ে বিক্ষোভ যখন চরমে তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গন এর রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করে। চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে, তারা হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের উসকে দিচ্ছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও অভিযোগ করে চীন  হংকংয়ের ভেতরে তাদের লোকদের লেলিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। পালটাপালটি এই দোষারোপের অবশ্য ভেতরের সমীকরণ ভিন্ন। আরো স্পষ্ট করে বললে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ। ওয়াশিংটন বেইজিংকে ঘায়েল করতেই হংকংয়ের পক্ষাবলম্বন করছে। আর চীন তার কর্তৃত্ব ধরে রাখতে হংকংয়ের ওপর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। তাই এই অবস্থায় হংকং সংকটের সমাধান কোন পথে তা সত্যিকার অর্থেই বলা মুশকিল। তবে এ-ও সত্য যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী কোনো শত্রু-মিত্র নেই। যে কোনো মুহূর্তে যদি নাটকীয় কোনো কিছু ঘটে যায় তাতে আশ্চর্য় হওয়ার কিছু নেই।