কাজের মেয়াদ চার দফা বাড়িয়েও নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নির্মাণাধীন একমাত্র বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের কাজের মেয়াদ চার দফা বাড়ানো হলেও নির্মাণকাজ কবেনাগাদ শেষ হবে তা বলতে পারছেন না ঠিকাদারি কোম্পানি ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হল হস্তান্তরের কথা থাকলেও যে গতিতে কাজ চলছে তাতে নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর করা যাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার জানান, মূলত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজটা ধীরগতিতে চলছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নির্মাণাধীন ১৬ তলা ভবনটির অভ্যন্তরীণ সিংহভাগ কাজ এখনো বাকি। পানির লাইন, স্যানিটেশন, ইলেকট্রনিক, লিফট, টাইলস, ভবনের বিভিন্ন কক্ষের রঙের কাজ সম্পূর্ণই বাকি আছে। বাকি রয়েছে অধিকাংশ ঝুলবারান্দার কাজ। দ্বিতীয় থেকে ৬ষ্ঠ তলায় এখনো লাগানো হয়নি দরজা-জানালা। দেখা যায়, মাত্র ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের মধ্যেও কাজ করার তাড়া নেই। কেউ ঘুমাচ্ছেন আবার অনেকে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

কর্মরত শ্রমিকরা জানান, কাজ এখনো অনেক বাকি রয়েছে। কোম্পানি আমাদের সময়মতো মালামাল সরবরাহ করে না, তাই আমরাও কাজ করতে পারছি না। কবে যে কাজ শেষ হবে সেই শঙ্কায় আছি আমরা। আমাদের সময়মতো মালামাল সরবরাহ করলে খুব দ্রুতই কাজ শেষ হয়ে যেত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলছেন, নির্মাণ কাজের তদারকি করছে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ না, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করাচ্ছেও না। কাজ করছে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। ডিসেম্বর মাসে কাজ সমাপ্ত করে জানুয়ারি মাসে আমাদের হলটি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। এখন আমরা জানুয়ারিতেই হল বুঝে পেতে চাই।

কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০ তলা ভিত্তির ওপর ১৬ তলা ভবনের হলটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ৩৬ মাস। প্রকল্প বাস্তবায়নের ভার দেওয়া হয় শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের ওপর। এ প্রকল্পের প্রথম দফায় মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয় মেয়াদ ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন। তৃতীয় দফায় ২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক হেলাল উদ্দিন আহমেদ দায় এড়িয়ে বলেন, আমাদের কাজের তদারকি করছে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। তাদের কাছে গত বছরের এপ্রিল মাসে এক্সটেনশন ফাইল পাঠিয়েছিলাম অথচ এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল পাইনি। এ ফাইল পাস না হলে কবে কাজ শেষ হবে সেটা বলা সম্ভব নয়।

গত ডিসেম্বরে ছাত্রী হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম এ বিষয়ে জানান, আমরা খুব দ্রুত কনস্ট্রাকশন কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু ঠিকাদারি কোম্পানি তা আমলে নিচ্ছে না। এক্সটেনশন বাজেটের অজুহাতে কাজ না করে সময়ক্ষেপণ করছে তারা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার ইত্তেফাককে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ফাইল আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি পাশ হয়ে গেলে খুব দ্রুত আমরা হলের কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিতে পারব। কিন্তু এ নিয়ে কতদিন সময় লাগবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। মূলত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজটা ধীরগতিতে চলছে। ফাইলটি অনুমোদিত হয়ে গেলে আমরা বেশি শ্রমিক নিয়োগ করে, রাত-দিন কাজ করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করব। আমরা আশাবাদী যে, ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে জানুয়ারিতে হলে ছাত্রী উঠতে পারবে।