শব্দের পর শব্দের গাঁথুনি দিয়ে যাচ্ছেন শিল্পী। কখনো তুলে আনছেন বিদ্রোহের বাণী, কখনো বা পায়রার পায়ের ধ্বনি। গাঁথুনির শেষ হয় ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিয়ে। গাঁথুনির শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখা যায়, এ শুধু শব্দের গাঁথুনি নয়, গাঁথুনিটি অবিকল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিত্রপট। শব্দ দিয়ে চিত্র তৈরির এমন নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরিন সুলতানা আঁখি। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক এই শিক্ষার্থী বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়েন। বিশ্বধর্মের ছাত্রী হলেও চিত্রকলার প্রতিও বেশ ঝোঁক রয়েছে এই শিল্পীর। এ ধরনের ছবিতে চিত্র আর শব্দের মিশ্রণে এক ধরনের দ্যোতনা তৈরি হয় বলে জানান শিল্পী। শব্দগুলো দর্শককে ভাবতে শেখায় খুব সহজ করে। শব্দ দেখে দর্শক চিত্রটিকে অনুভব করবেন।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই শিল্পীর চিত্রকর্ম সিরিজ প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে। ‘নিষিক্ত কবিতা: ১-৬’ সিরিজটি একাডেমির ‘আনসান সং’ নামের এক চিত্র প্রদর্শনিতে দেখানো হয়। চলতি বছরের অক্টোবরেও শিল্পকলা একাডেমিতে ‘পেন্সিল’ আয়োজিত প্রদর্শনীতে আঁখির ‘আওয়ার প্রাইড’ চিত্রকর্মটি প্রদর্শিত হবে।
ছোটোবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক শুরুটা ছিল সাঈম মুনীরের হাত ধরে। প্রথম দিকে ক্যানভাসে ছবি আঁকলেও অর্থনৈতিক কারণে বন্ধ হয়ে যায় ক্যানভাসে ছবি আঁকা। পরে নিজেই শুরু করেন নতুন ধারার এই চিত্রশিল্প। কালো কাগজের ওপর সাদা রঙের তুলিতে এসব ছবি আঁকেন তিনি।
পথচলা একেবারে মসৃণ ছিল না। এতদূর পথ পাড়ি দিতে নানা বাধার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশে ছবি আঁকা পেশা হিসেবে দেখা হয় না। ছবি আঁকলেও এর মূল্যায়ন করা হয় না। পরিবার থেকেও প্রথম প্রথম বাধা আসত। এখন তারা সমর্থন দেয়, আমাকে নিয়ে গর্বও করে।’
এই শিল্পী স্বপ্ন দেখেন—অনেক বড়ো হওয়ার। চিত্রকর্ম এবং চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন তার। নিজের স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশীয় চলচ্চিত্রকে পরিবর্তন করার স্বপ্নও লালন করি। বড়ো হয়ে একটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি দেব। সেখান থেকে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র করার ইচ্ছে আছে। এ ছাড়া আর্ট গ্যালারি খুলবেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, চিত্রকর্ম প্রদর্শনীগুলোতে খ্যাতিমান শিল্পীরা ছবি দিলে তাদের নামের কাছে তরুণদের জমা দেওয়া ভালো চিত্রকর্মও হারিয়ে যায়। চেষ্টা করব—এ ধারা পালটে দিতে।
