অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ

বশেমুরবিপ্রবি ভিসিকে প্রত্যাহারের সুপারিশ ইউজিসির

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৯

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈতিক স্খলনের দায়ে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি এ সংক্রান্ত রিপোর্টে তাকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ একাধিক সুপারিশ করে। গতকাল রবিবার ইউজিসির পাঁচ সদস্যের এ কমিটি প্রতিবেদনটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর  কাছে জমা দেন। সেটি গতকালই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো  হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য ও ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করেছি। ভিসি, শিক্ষার্থী, গ্রামবাসীসহ সবার সঙ্গে কথা বলে সে আলোকেই রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমি মনে করি এ বিষয়ে সুষ্ঠু একটা সমাধান হবে।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, ভিসি খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে স্বপদে বহাল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তাকে  প্রত্যাহারের সুপারিশ করে বলা হয়, অনিয়ম-দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ইউজিসির তদন্ত দল বশেমুরবিপ্রবিতে অবস্থান করে। এ সময় তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তে ১৯ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। এরমধ্যে রয়েছেন উপাচার্য, প্রক্টর, একাধিক শিক্ষক, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী। তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, যে ঘটনাকে কেন্দ  করে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে সম্পূর্ণ দোষ উপাচার্যের। কারণ তিনি একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা তিনি বলতে পারেন না। এছাড়া উপাচার্য নিজে দোষ করে উলটো ঐ শিক্ষার্থীকেই বহিষ্কার করেন। যা আরেকটি অন্যায়। আন্দোলন থামাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বহিরাগতদের দ্বারা হয়েছে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে এখানেও উপাচার্যের দায়ভার আছে। তার অবশ্যই মামলা করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। এতে বোঝা যায়, হামলায় তার ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

আইন বিভাগের একজন ছাত্রীকে বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

যত অভিযোগ : বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়া নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের অধিকাংশই হয়েছে বর্তমান উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের মেয়াদে। ২০১৫ সাল থেকে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এমএলএসএস পদে নিয়োগ, বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা সমমানের পাশ বলা হলেও অষ্টম শ্রেণি পাশ প্রার্থীদেরও নিয়োগ, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ বা ২.৫০ জিপিএপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সময় ব্যয় না হওয়া প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাত্, নিজের আত্মীয়কে নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিউটি পার্লার খোলা, নারী কর্মচারীকে যৌন হয়রানি, কেনাকাটায় অনিয়ম, ভর্তি পরীক্ষায় পাশ না করা শিক্ষার্থীদেরও ভিসি কোটায় ভর্তিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করারও অভিযোগ আছে।