নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এ আইনটি বাস্তবায়নের আগে বেশকিছু সংস্কার করা হবে। এগুলো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল, ট্যারিফ মূল্য প্রথা বিলুপ্ত এবং একক হারের পরিবর্তে একাধিক হার রাখা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাটের ৩টি হার রাখা হবে। এটা ১৫ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ ও ৫ শতাংশ হতে পারে। যখন বাস্তবায়ন করা হবে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ট্যারিফ মূল্য প্রথা বিলুপ্ত করা হবে। এটার প্রয়োজন নাই। পণ্যের প্রকৃত দামের ওপর ভ্যাট আদায় করা হবে। যদি ভ্যাট আরোপের ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে ওই পণ্যকে প্রয়োজনে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে এটা আস্তে আস্তে করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর ভ্যাট আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়, তার দ্বিগুণ আদায় সম্ভব। এটা জোর করে নয়, ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করে করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, দুদক এনবিআর বা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী। আমরা সহযোগিতা করতে চাই।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা হয়রানিমুক্তভাবে ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে চাই। উত্পাদন পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা ৯ প্রতিষ্ঠানসহ ঢাকা বিভাগের আরো ২১ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া ভ্যাট বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও সম্মাননা দেয়া হয়।
এদিকে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে সকালে সেগুনবাগিচায় এনবিআর ভবনের সামনে আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহের উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
