জাবিতে ৬ষ্ঠ দিনের মতো উপাচার্যবিরোধী কর্মসূচি পালন

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:২৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের পাদদেশে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে কালো পতাকা প্রদর্শন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন টানা ষষ্ঠ দিনের মতো উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হলো। আজ (সোমবার) শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে কালো পতাকা প্রদর্শনের সঙ্গে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘উপাচার্যকে আমরা আলটিমেটাম দিয়েছি। তাকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার, অধ্যাপক তারেক রেজা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন রুনুসহ জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার নেতৃবৃন্দ অংশ নেন ।

ছাত্রীকে নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষককে সব

কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার বিশেষ ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল তদন্তের কাজ শুরু করেছে। তদন্ত চলাকালীন সানওয়ার সিরাজকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য তা অনুমোদন করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, তদন্ত চলাকালীন আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।