বগুড়ায় পেঁয়াজের দামে অস্বাভাবিক ঝাঁজ, দিশেহারা ক্রেতা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:০৫

বগুড়ার বাজারে দুদিন আগেও এক কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ কেনা যেতো ৮০ টাকায়। সেই পেঁয়াজের দাম একলাফে প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে এখন ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার পর পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে গড়পড়তা এক কেজি পেঁয়াজে গড়ে ৪০ টাকা দাম বেড়েছে। পেঁয়াজের ঝাঁজে দিশেহারা ক্রেতা।

পাইকারি মোকাম বগুড়ার রাজাবাজার ও খুচরা ফতেহ আলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রবিবার আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ এবং বার্মা থেকে আসা পেঁয়াজ গড়পড়তা প্রতিকেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বেচাবিক্রি হয়েছে। এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বেচাবিক্রি হয়েছে  গড়ে ৬০ টাকায়। একহাত বদলের রাজাবাজার এবং পাশ্ববর্তী ফতেহ আলী বাজারে খুচরা পর্যায়ে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৬০ এবং দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে রাত পোহাতে না পোহাতেই  পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে ঝাঁজ বেড়ে যায় পেঁয়াজের।

পাইকারি পর্যায়ে আমদানি করা যে পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা, সোমবার ও মঙ্গলবার সেই পেয়াঁজ পাইকারি পর্যায়ে দাম একলাফে প্রতিকেজি ৮০ টাকায় চলে যায়। অন্যদিকে ৬০ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজের দাম ওঠে এক লাফে যায় ১০০ টাকায়। একহাত বদল হয়ে একই বাজারের খুচরা পর্যায়ে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ওঠে ১০০ এবং দেশি পেয়াজের দাম ওঠে প্রতি কেজি ১২০ টাকায়। 

বগুড়ার রাজাবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া ছাড়াও পাইকারি এই মোকাম ও আড়ৎ থেকে পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং গাইবান্ধার ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কেনেন। এই পাইকারি মোকামে পেঁয়াজের বাজার নির্ভরশীল আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহের ওপর। ভারত থেকে হিলি, ভোমরা, বেনাপোল এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর হয়ে এতোদিন ভারত থেকে বগুড়ার রাজাবাজার আড়তে পেঁয়াজ আসতো। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের প্রভাব পড়ে বাজারে।

রাজাবাজার আড়ৎদার ব্যবসায়ীরা বলেন, স্থলবন্দরগুলো থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের ট্রাক না আসায় এখন রাজাবাজারের অধিকাংশ পাইকারি আড়ৎ পেঁয়াজ শূন্য। সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাইকারি পর্যায়ে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন ৮০ টাকা কেজি দরে বেচাবিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ আসে কার্যত পাবনা ও নাটোর এলাকা থেকে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পর দেশি পেঁয়াজের মোকামেও অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে।

আরও পড়ুন: বানারীপাড়ায় দশ শয্যা হাসপাতালের বেহাল দশা

অবশ্য রাজাবাজারের অন্যতম আমদানিকারক আবদুল গফুর ফকির আশ্বস্ত করেন, দুয়েকদিনের মধ্যে মায়ানমার, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বগুড়ার আড়তে পৌঁছাবে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারও স্থিতিশীল হবে। 

ইত্তেফাক/নূহু