উত্সব-উচ্ছ্বাসের গল্প

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩০

 

ফার্মা ফ্যামিলির একদিন

 

  তানভীর আহমেদ রাসেল  

 

২৫ সেপ্টেম্বর, ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে। এটি শুধু একটি দিবস নয়, ফার্মেসি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক মহোত্সব। শিক্ষার্থীরা এই দিন আনন্দ শোভাযাত্রাসহ নানান স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি সম্পাদন করেন। এর ব্যত্যয় ঘটেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগেও।

বিভাগের সহযোগী সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি সোসাইটির (কাপস) উদ্যোগে নেওয়া হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি। প্রদর্শনের জন্য সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা তৈরি করতে থাকেন নানান পোস্টার, ফেস্টুন, হস্তনির্মিত প্রফেশন বিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ। যার মধ্যে ছিল, ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ব্যাকটেরিয়াসহ নানান সামগ্রির বিচিত্র ছবি যা নজরকাড়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। সকালেই বিভাগের সকল শিক্ষক ও উপাচার্য মহোদয়ের উপস্থিতিতে  শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ করেন। পরপরই শিক্ষার্থীদের  শৈল্পিক নৈপুণ্যে নির্মিত স্টলে কেক কেটে শিক্ষক ছাত্রছাত্রী একে অপরকে খাইয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এর পরপরই শুরু হয় হেলথ ক্যাম্পেইন। ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি টিম ব্লাড গ্রুপিং, ব্লাড প্রেশার নির্ণয়সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রদান করেন।

সিনিয়র থেকে জুনিয়র সবার মাঝে ছিল নজরকাড়া উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। ফার্মেসি বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন শাওন বলেন, কুবির ফার্মেসি বিভাগ দ্বিতীয়বারের মতো অনেক বড়ো পরিসরে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদ্যাপন করেছে। এটি আমাদের অন্যতম মিলনমেলা ও বটে। এসব কর্মসূচির ফলে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞানের খানিকটা প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছি। বৃহত্ পরিসরে প্রয়োগ করে দেশ ও মানবজাতির সেবা করার জন্য দ্রুত হসপিটাল ফার্মাসি ও কমিউনিটি ফার্মেসি চালু করার জন্য সরকারের নিকট জোর আবেদন জানাচ্ছি।

 

০০০

প্রকৃতির খোঁজে

  মাইনুদ্দিন পাঠান

 

সময়টা ১৯ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল স্বপ্নবাজ বন্ধু বৃত্তের হাসিখুশি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে ট্রেন যাত্রা শুরু হয় প্রকৃতির কন্যা সিলেটের উদ্দেশে।

২০ ডিসেম্বর সকালে ট্রেন পৌঁছে যায় নির্ধারিত গন্তব্যে। সেখানে সবাই মিলে সকালে খাবার খেয়ে মূল গন্তব্যের পথে এগিয়ে যায় স্বপ্নবাজ বন্ধুরা। সিলেটের সুনামগঞ্জ পাড়ে অপেক্ষমাণ নৌকা। টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশে সকলের নৌকা ভ্রমণ শুরু।

টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রবেশ মুখেই দেখা যায় সারিসারি হিজলগাছ। দেখে মনে হবে এই গাছগুলো হাওরে আগত অতিথিদের অভিবাদন জানানোর জন্যই দাঁড়িয়ে আছে। মূল হাওরে প্রবেশ করলে হাওরের পানিতে নিচের দিকে তাকালে দেখা মিলবে হরেক রকম লতাপাতা-জাতীয় জলজ উদ্ভিদ। দেখে মনে হবে পানির নিচে অপরূপ সবুজের স্বর্গরাজ্য। 

ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারিসারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাংগুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম।  হিজল করচের দৃষ্টি নন্দন  সারি এ হাওরকে করেছে মোহনীয়।

অতঃপর হাওরে নৌকায় রাত কাটিয়ে সকালে শুরু হয় সুনামগঞ্জের প্রকৃতি উপভোগের পালা। বিপুল সম্ভাবনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ সাজে সেজে আছে দেশের উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত এই সুনামগঞ্জ জেলা। নান্দনিক সৌন্দর্য আর শৈল্পের কারুকার্যে ভরপুর করে দিয়েছেন বিধাতা নিজেই। 

 

০০০

বন্ধনে অটুট যে

পরিবার

 

  দেলোয়ার শিরন

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের নিকট এক বসন্ত, সবুজ পত্রপল্লবে সজীব ও প্রাণবন্ত পরিবার। বর্তমান কিংবা সাবেক সবার কাছে একবাক্যে স্বর্গরাজ্য। দেশ অথবা বিদেশ সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিজন জাবিয়ানের কাছে আকাঙ্ক্ষা, আবেগ আর ভালোবাসার ঠিকানা এ ক্যাম্পাস। যেখানেই দুই বা তার অধিক জাবিয়ানের বসবাস, সেখানেই যেন এক টুকরো জাবি পরিবার।

কক্সবাজারে কর্মরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বিদ্যমান রয়েছে ‘জেইউ ফ্যামিলি কক্সবাজার’। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ‘জেইউ ফ্যামিলি কক্সবাজার’ এর দিনব্যাপী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণ করেন ৮৭ জন সাবেক শিক্ষার্থী। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচ থেকে শুরু করে ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের স্থানীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত চাকরিজীবীরা ছাড়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত ঊর্ধ্বতন সরকারি চাকরিজীবীরাও এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেন। স্বাগত বক্তব্য ও টি-শার্ট বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ‘জেইউ ফ্যামিলি কক্সবাজার’ এর অঘোষিত আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ। এরপর হোটেল মিশুক থেকে আনন্দ র্যালি যাত্রা শুরু করে লাবণী বিচ হয়ে কলাতলী বিচে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। সঙ্গে চারপাশ থেকে ডিএসএলআর এবং স্মার্ট ফোনের ক্লিক ক্লিক শব্দ উল্লাসের মাত্রায় বাড়তি উন্মাদনা সৃষ্টি করে। দূর থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাস আর সাগর পাড়ে আছড়ে পড়া সমুদ্রের ঢেউয়ের তর্জন-গর্জন এ উল্লাসকে যেন স্বশব্দে স্বাগত জানায়। র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ছিল আরো প্রাণবন্ত।