মো. শফিকুল ইসলাম
তাই ‘সহস্র প্রাণের প্রত্যয়ে স্মৃতির উল্লাসে’ স্লোগানকে ধারণ করে প্রতিবারের মতো আয়োজন করা হয়েছিল তিন দিনব্যাপী শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের (র্যাগ ডে)। খুবির ১৯তম শিক্ষা সমাপনীর প্রথম দিন ২৫ সেপ্টেম্বর বেলুন উড়িয়ে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। এরপর বাসে এবং ট্রাকে চড়ে বিশাল এক শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। রাস্তার দুই পাশে উত্সুক মানুষের চোখেমুখে এক অজানা উন্মাদনা। ক্যাম্পাসে ফিরে রঙের খেলায় মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। নাচে, গানে আর রঙের খেলায় মুহূর্তে সৌন্দর্যের এক অনন্য রূপ ধারণ করে ক্যাম্পাস। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নাচ এবং গানে মুখরিত হয় চারিদিক। শিক্ষা সমাপনীর দ্বিতীয় দিন অর্থাত্ ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টায় বিদায়ি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য।
শিক্ষার্থীদের এই বিদায়ি আলোচনা অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয় ‘সায়ন্তন’। যার অর্থ বেলা শেষে। তিনদিনের প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকলেও সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শেষ দিনের কনসার্ট। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একে একে সংগীত পরিবেশন করেন হাসানের ব্যান্ড আর্ক, অর্ণব এবং ওয়ারফেজ। আতশবাজির ঝলকানি আর বহুমাত্রিক সুরের মূর্ছনায় ক্ষণে ক্ষণে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। কখনো তীব্র সুখের উল্লাস তো কখনো চাপা কষ্টের স্নিগ্ধ আর্তনাদ। দুঃখ-সুখের এ মহাকাব্যের অংশ হতে দূরদূরান্ত থেকেও আসে মানুষের ঢল। যেন জীবনকে উপভোগ করার উপলক্ষ্য পায় তারা। এক সময় সব আয়োজন শেষ হয়ে যায়। চারিদিকে নিস্তব্ধতা। একে একে বিদায়ি শিক্ষার্থীরা উঠে আসে মঞ্চে। বেজে ওঠে বিষাদের সুর। চেনা মুখগুলোর সঙ্গে আর প্রতিদিন দেখা হবে না। তিলে তিলে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো পড়ে থাকবে স্মৃতির পাতায়।
বিদায়ের শোকে পুরো মঞ্চ যেন পরিণত হয় একটি হূদয়ে। বাঁধনহারা চোখের পানি আর সহস হাতের আলিঙ্গনে মেতে ওঠে সায়ন্তনেরা। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদায়ি শিক্ষার্থী সুব্রত আকাশ নন্দী বলেন, চলার পথে জীবন বহুবার মোড় নেয়। জীবনের প্রয়োজনে সব মোড়কেই আমাদের সফলভাবে পার করতে হয়। এটাও জীবনের একটা মোড়। তবে আক্ষেপ লাগে, এই পথ যদি না শেষ হতো....
