সূচনার শুভ সূচনা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৬

  মাহবুব নাহিদ

 

চায়না বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাম্প-২০১৯-এ বাংলাদেশের ডেলিগেট হয়ে দুই সপ্তাহের সফর শেষ করে এলেন সাদিয়া রশ্মি সূচনা। বেশ কিছু পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ক্যাম্পে যাওয়ার সুযোগ মিলেছে। বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে এই নিয়ে তৃতীয়বার অনুষ্ঠিত হলো এই যুব ক্যাম্প। ক্যাম্পে অনেকের মধ্যে এক বিশেষ মুখ ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের হয়ে তিনি গিয়েছেন এই ক্যাম্পে। বর্তমানে চীনা ভাষার কোর্সে লেভেল টুতে আছেন। চীনে সাংস্কৃতিক পর্বে নিজের প্রতিষ্ঠানের পরিবেশনার সঞ্চালক ছিলেন তিনি। এছাড়া উদ্বোধনী পর্বে ক্যাম্প রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে একই সঙ্গে বাংলা ও চীনা ভাষায় চমত্কারভাবে তুলে ধরেন দেশকে।

ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন রশ্মি। তার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জাতীয় পর্যায়ের সার্টিফিকেটগুলো তাকে এই ক্যাম্পে সুযোগ পাওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছিল আরো এক ধাপ। বিশেষ করে রচনা লেখার ওপর তার দারুণ দক্ষতা। তাই তো ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মিলেছে অনেক স্বীকৃতি। একসময় কাজ করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেনের ত্রৈমাসিক পত্রিকায়। মাইক্রোফোনের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। তার বিশ্বাস, জনতার সঙ্গে সম্পৃক্ততায় মাইক্রোফোন একধরনের ম্যাজিক। দেশকে যেহেতু ভালোবাসেন, তাই জনতা তাকে ভীষণ টানে।

বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সুযোগ মিলেছে, অংশ নিয়েছেন বারোয়ারী বিতর্কেও। সেখানেও মিলেছে স্বীকৃতি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ সম্পন্ন করেছেম নওগাঁ জেলায়। বর্তমানে তিনি হোম ইকোনমিকস কলেজে শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগে স্নাতক শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। একজন এসএমই অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে নিরলস কাজ করছেন উদ্যোক্তাদের সমৃদ্ধি নিয়ে। বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংস্থা ঐক্য ফাউন্ডেশনের তিনি ডিরেক্টর ও জেনারেল কাউন্সিল মেম্বার। দেশ ও বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল উদ্যোক্তা বার্তার কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

চীনের যুব ক্যাম্প তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। সেখানকার ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে এবং শিক্ষা ও বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর ট্রেনিং পেয়েছেন। চীনাদের সরল বন্ধুভাবাপন্ন মানসিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে সেখানকার মেয়েদের পরিশ্রমী ও নিয়মমাফিক জীবনযাপন দেখে অভিভূত হয়েছেন রশ্মি।

অবসরে তিনি বই পড়েন, লিখতে ভালোবাসেন আর পাহাড়-সমুদ্রে ঘুরে বেড়াতে খুব পছন্দ করেন। প্রকৃতিকন্যা হয়ে সবুজে মিশে যাওয়ার বাসনা ব্যস্ত জীবনে তাড়িয়ে বেড়ায় রোজ। নিজের গুছিয়ে রাখা কোনো কিছুই হারাতে চান না তিনি। সামর্থ্য হলে জীবনে একটি সংগ্রহশালা তৈরি করতে চান। সেখানে সাজানো থাকবে ইতিহাসের সাক্ষী ছোট্ট সাধারণ কোনো বস্তু থেকে শুরু করে অনেক পুরোনো কলম, ছবি, জাদুঘর থেকে সংগ্রহ করা স্যুভেনিয়র, শুকনো ফুল, পাতা, বন্ধুদের দেওয়া নানান উপহার ও স্মৃতিময় সবকিছু। আর সব সময়ের প্রিয় বন্ধু বইয়ের জন্য সেখানে থাকবে বিশেষ স্থান। তার ইচ্ছা চিরজীবন দেশের মানুষের সেবক হয়ে কাজ করবেন। দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশ্বব্যাপী। সুন্দর আগামীর একটি সাধারণ কর্মব্যস্ত জীবন তার প্রত্যাশা। তার কর্মের মাঝে প্রিয় বাংলাদেশ যেন তাকে আজন্ম মনে রাখে, সেই স্বপ্ন চোখে আঁকেন রশ্মি।