‘প্রতিবন্ধীদের মডেল হতে চাই’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৬

  কমল কান্ত রায়

 

নাসিমা বেগম একজন প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধীর জন্য কাজ করছেন। প্রতিবন্ধীর মডেল হতে চান নাসিমা। নাসিমার বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বাওশালা গ্রামে। বাবা মৃত মোজাম আলী মোড়ল। দুই বোন ও এক ভাই। ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। জন্মের চার বছর পর ১৯৮৬ সালে পোলিও রোগে আক্রান্ত হন নাসিমা। প্যারালাইসিস হয় পরে তার শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে যায়। হয়ে যান প্রতিবন্ধী। জীবন নেয় অন্য মোড়। জীবনতরি বয়ে চলে অন্য রূপে। স্বপ্নগুলো হয়ে উঠে দুঃস্বপ্ন। নাসিমা প্রতিবন্ধী হয়েও একে একে কৃষি ডিপ্লোমাসহ নেন বিএজিইড। তাছাড়া টেইলারিং ও কম্পিউটার বিষয়েও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জীবনের গতি শ্লথ হলে থেমে থাকেনি গতি। জীবনে প্রথম চাকরি করেন ঢাকার গাজীপুরে প্রফেসর আজিজুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এডমিন অ্যান্ড অ্যাকাউন্স অফিসার হিসেবে। পরে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ নামের একটি সংগঠনে প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে চাকরি নেন। বর্তমানে রংপুরের পাঁচ উপজেলা গঙ্গাচড়া, রংপুর সদর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছেন। 

প্রতিবন্ধীদের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কথা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী নিয়ে কাজ করতে আপনার কেমন লাগছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজে প্রতিবন্ধী হয়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করছি। তাদের সচেতন করছি। তাদের অধিকারের কথা বলছি। ভালোলাগে তাদের সঙ্গে কাজ করতে। তারা আমাকে মূল্যায়ন করে। তারা আমাকে অনুসরণ করবে। অনুপ্রাণিত হবে। এখন আর নিজেকে প্রতিবন্ধী ভাবি না। সাধারণ মানুষ যেভাবে সক্ষম, আমরা অন্যভাবে সক্ষম। মানুষ দুই পা দিয়ে কাজ করে, আর আমি চার পা দিয়ে কাজ করি— এই পার্থক্য। যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে টেইলারিং, কম্পিউটার এবং বিউটিশিয়ান বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এতে তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সবশেষে তিনি তার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তার সরকারি চাকুরীর বয়স এ বছর শেষ হবে। তারপরও ভবিষ্যত্ নিশ্চিয়তা নেই। কেউ বিয়ে করতেও চায় না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সরকারি চাকরির আবেদন করেন। তাছাড়া তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।