>> ইমন নাজমুল
রেজওয়ানা খান । একজন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, পরামর্শক ও বিনিয়োগকারী। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন কয়েকটি কোম্পানি। তবে তার সবকিছুই আইসিটি সেক্টরকেন্দ্রিক। কারণ এ সেক্টরে তার রয়েছে ১৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। ই-গভর্নেন্স, এন্টারপ্রাইজ, এইচআর রির্সোস ও ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেনট প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রেজওয়ানা খানের। নিজের কোম্পানি নিয়ে কাজ করলেও রেজওয়ানা খান আইসিটি সেক্টরে পরামর্শক হিসেবে বেশ পরিচিত।
নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও কাজের সুযোগ দিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন দক্ষ কর্মীবাহিনী। কাজের জায়গাতে তিনি কাজকেই প্রাধান্য দেন। তিনি বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজও করছেন নিয়মিত। ঝুলিতে রয়েছে বেশ কিছু সম্মাননা। বাবা আলী আকবর খান। স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। যার হাতেই প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের যে কয়েকজন পথিকৃত্ আইটি ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি তাদের অন্যতম। সেই বাবার দেখানো পথেই হাঁটছেন রেজওয়ানা খান। তিনি স্টার কম্পিউটার সিস্টেম লিমিটেডের সিইও। শ্রম, মেধা ও সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন বহুমুখী কাজে। শুধু ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, স্বপ্ন দেখেন দেশের সুপার টেকনোলজি নিয়ে। স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে।
স্বপ্নটা তখনই শুরু হয়েছিল, যখন বাবাকে দেখতেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন। কারণ বাবার কাছের মানুষ ছিলেন রেজওয়ানা। ইচ্ছা ছিল আর্কিটেকচারে পড়বেন, কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। পড়াশোনাও আইসিটি সেক্টরকে কেন্দ্র করে। আর পড়ার সময়ই চিন্তা করেন ব্যবসা করবেন এবং সেটি প্রযুক্তিখাতেই (টেকনোলজি)। সেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন প্রতিনিয়ত। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স (সিএসই) ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেই ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া থেকে সফটওয়্যার সিস্টেম ডিগ্রি নিয়েছেন। সেখানকার দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে উচ্চ ডিগ্রি নেন। তারপর ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড থেকে এমপাওয়ার উইম্যান থ্রট এন্টারপ্রেনিয়রশিপ অ্যান্ড বিজনেসে ফেলোশিপ অর্জন করেন।
বাবার প্রতিষ্ঠান থেকেই ব্যবসাতে হাতেখড়ি তার। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হলেও ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল, দুই বছর ১ মাস প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল, ১ বছর ৪ মাস তিনি প্রতিষ্ঠানের বিজনেস অ্যান্ড সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। এরপরই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও পদে যুক্ত হন। স্টার কম্পিউটার সিস্টেম লিমিটেডের সঙ্গে তার কাজের বয়স দীর্ঘ ১৬ বছর। রেজওয়ানা খানের ক্যারিয়ার জীবনের শুরু থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা নিয়েই ছিল ধ্যান-জ্ঞান। সফটওয়্যার টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শুরু করেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনসালটিং ব্যবসা। এখন এই সেক্টরের ভালো ভালো বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে ছুটে চলেছেন তিনি।
রেজওয়ানা খান বলেন, ‘১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৮ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস। ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে আইসিটি সেক্টরে কাজ করছে আমাদের কোম্পানি। আর আমাদের কোম্পানির মূল কাজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন ইমপ্লিমেন্টেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনসালটিং। আমরা যেসব লেভেলের কোম্পানির কনসালটিং করি, এসব প্রজেক্টের সাইজ এবং মূল্যমান কয়েক মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির কনসালটিংয়ের কাজ করি। পাশাপশি একটা এইচআর রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সেক্টর আছে। বাংলাদেশে এটা ট্রেনিং সেক্টর হিসেবে পরিচিত। এ সেক্টর থেকে এর মধ্যেই ৩০ হাজারেরও বেশি ছেলে-মেয়ে আইটির বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আমরা সাধারণত আমেরিকার বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কাজগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিই। কনসালটিংয়ের জন্য একটা বড় টিমও রয়েছে। কনসালটিংয়ে আমরা একদম এন্টারপ্রাইজ লেভেলের সলিউশন দিই। কোম্পানির বিজনেস প্রসেস বুঝে, বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং করে কিভাবে হোল সল্যুশন হবে এসব দিকগুলো গুরুত্ব দিই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখি, দেশে সুপার টেকনোলজি নিয়ে। যেখানে দেশ এগিয়ে যাবে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে তারা দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলে কাজ করতে পারে এবং সঠিক মূল্যায়ন পায়। আমি বরাবরই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করি। দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলার জন্য আহ্বান করি সবসময়।’
