আমেরিকান স্প্রিন্টার ক্রিশ্চিয়ান কোলম্যান বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে স্বর্ণ জিতলেও তাকে ঘিরে চলছে বিতর্ক। বলা হচ্ছে দোহায় অনুষ্ঠানরত অ্যাথলেটিক্সের বিশ্ব আসরে জয়টির পরই বলাবলি হচ্ছে ডোপ টেস্টে যথাযথভাবে উত্তীর্ণ না হয়েও কীভাবে তিনি চ্যাম্পিয়ন হলেন। কোলম্যানের বক্তব্য কেবলমাত্র কৃষ্ণবর্ণের বলেই তাকে এমন সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার।
উসেইন বোল্টের কাছে হেরে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় হওয়া কোলম্যান বিবিসিকে জানান ২০১৮ সাল থেকে তিনটি ড্রাগ টেস্টে হাজির হননি কোলম্যান। তারপরও তিনি দোহায় ৯.৭৬ সেকেন্ডে দূরত্বটি পার হয়ে প্রথম হন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোলম্যান ইতিহাসের সেরা ১০ স্প্রিন্টারের মধ্যে চলে এসেছেন। ২৩ বছর বয়সি কোলম্যান এখন ১০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বের ষষ্ঠ দ্রুততম মানব।
এন্টি ডোপিং এজেন্সিগুলোর নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাথলিটরা কখন কোথায় থাকবেন সেটা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সাথে কোথায় অনুশীলন করবেন এবং রাতে থাকবেন সেটাও জানানোর কথা। যদি ১২ মাসের ব্যবধানে তিনবার এসব তথ্য জানাতে কেউ ব্যর্থ হন, তবে সেটা বিশ্ব এন্টি ডোপিং কোড অনুযায়ী নিয়ম ভাঙা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
কোলম্যান মোট তিনবার এসব তথ্য দিতে ব্যর্থ হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র এন্টি ডোপিং এজেন্সি বৈশ্বিক ডোপিংবিরোধী কর্তৃপক্ষের কাছে পরামর্শ চায়। এই তিনবারের মধ্যে দুইবার টেস্ট করে যুক্তরাষ্ট্র এন্টি ডোপিং এজেন্সি, বাকি দুবার করে অ্যাথলেটিকদের ইনটেগ্রিটি ইউনিট।
তবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বছরের ব্যাপ্তিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়, প্রতি ভাগের হিসেব করা হয় প্রথম দিন থেকে। কোলম্যান যে সময় প্রথমবার নিজের অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হন, অর্থাত্ ৬ই জুন ২০১৮ থেকে হিসেব করলে, ১২ মাসের হিসেবের প্রথম দিন হয় পহেলা এপ্রিল ২০১৮। এটি হলো তৃতীয়বার অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হওয়ার মানে ২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ এর ১২ মাসের বেশি সময় আগে।
বিশ্ব এন্টি ডোপিং সংস্থা এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের এন্টি ডোপিং সংস্থার কাছে পরিষ্কার করলে শাস্তি কোলম্যানের শাস্তি উঠিয়ে নেওয়া হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ডোপবিরোধী কর্তৃপক্ষের এই শাস্তি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে বিশ্ব এন্টি ডোপিং এজেন্সি অথবা আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আপিল করতে পারবে। দোষী সাব্যস্ত হলে কোলম্যান নিশ্চিতভাবেই ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে পারতেন না।
কৌশলগত সুযোগ পেয়ে স্বর্ণ জেতার পর আত্মপক্ষ সমর্থনে কোলম্যান বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে মানুষ আমাকে নিয়ে যেসব কথা বলে, তারা আসলে আমাকে চেনে না। আমি সব সময় প্রমাণ করে আসছি যে আমি এমন একজন মানুষ যে সঠিক উপায়ে কাজ করে যাই। আমি শুধু নিজের ও পরিবারের দিকে নজর দেই, আমি ধন্য যে আমি এখন দ্রুততম মানব।’
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি যেখান থেকে উঠে এসেছি, মানুষ আসলে ধারণা করে না আমি কিছু জিততে পারব, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারব। মানুষ ধারণার বাইরে যেতে পারে না, বিশেষত আমার মতো কালো আমেরিকানের ক্ষেত্রে।’-বিবিসি
