ড্র হলো ‘এ’ দলের ম্যাচ
স্পোর্টস রিপোর্টার
শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই সিরিজটাকে খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছে বিসিবি। যে কারণে জাতীয় দলের সমসাময়িক কয়েক জন খেলোয়াড়, যারা ফর্মে ছিলেন না, তাদের পাঠানো হয়েছে এখানে। আর এই খেলোয়াড়দের লড়াই দেখতে শ্রীলঙ্কায় আছেন স্বয়ং কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিংটা অন্তত খুব খারাপ দেখেননি এই কোচ-নির্বাচকরা। কিন্তু বোলিং নিশ্চয়ই খুব হতাশ করেছে তাদের। বাংলাদেশের প্রথম সারির বোলাররা এতটাই অকার্যকর ছিলেন যে, উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিঠুনকে ১৪ ওভার বল করে ২টি উইকেট নিতে হয়েছে।
মিঠুনের পাশাপাশি ঠিক ১৫০ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে বাংলাদেশের ৩৬০ রানের জবাবে ৪৫০ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ ওভারে ১ রান করে বাংলাদেশ। এরপর দুই দল ম্যাচের ড্র ভাগ্য মেনে নেয়।
২ উইকেটে ২০৪ রান নিয়ে গতকাল দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। সকালের সেশনে তারা আরো ২টি উইকেট হারায়। এরপর প্রিয়ামল পেরেরাকে নিয়ে বিশাল এক জুটি করেন কামিন্ডু মেন্ডিস। এই সময়ই না পেরে মিঠুনের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।
নিজের বোলিং করাটাকে ঠিক নিয়মিত বোলারদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে রাজী নন মিঠুন। তিনি বলছিলেন, এই গরমে ফাস্ট বোলারদের বিশ্রাম দেওয়াটা একটা উদ্দেশ্য ছিল। আর তার বোলিং সম্পর্কে জানতেন মুমিনুল, ‘আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুব একটা বল তো আগে করিনি। তবে নেমে ব্যাটসম্যানদের হেল্প করার জন্য মাঝে মাঝে অফস্পিন করি। আগেই নেটে আমার বল খেলতে গিয়ে সৌরভ (মুমিনুল) বলছিল, দরকার হলে ম্যাচে বল করতে পারব কি না। আমি বলটা একটা ভালো জায়গায় ফেলতে পারি। ফলে আত্মবিশ্বাস ছিল। আর আমাদের স্পিনার ছিল মিরাজ একা। ফলে ফাস্ট বোলারদের লোড একটু কমান দরকার ছিল। তাই আমাকে বেশ একটু বল করতে হয়েছে।’
এই বেশ একটু বল করতে গিয়ে ৩৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ফেলেছেন মিঠুন। ফিরিয়েছেন শ্রীলঙ্কার সফল ব্যাটসম্যান কামিন্ডু মেন্ডিসকেও। কামিন্ডু ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ‘এ’ দল-১ম ইনিংস: ১২০.১ ওভারে ৩৬০/১০ (মিঠুন ৯২, জহুরুল ৯০, মিরাজ ৫৭, সাদমান ৫৩, সৌম্য ২৪; রমেশ ৩/৫৭, ফার্নান্দো ৩/৫৯)
এবং ২য় ইনিংস: ১ ওভারে ১/০। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল-১ম ইনিংস: ১২১.১ ওভারে ৪৫০/১০ (কামিন্ডু ১৬৯, সংগীত ১০৪, প্রিয়ামল পেরেরা ৬১, প্রিয়াঞ্জন ৩৭, রমেশ ২১; মিরাজ ৫/১, মিঠুন ২/৩৪, এবাদত ১/৮২, রানা ১/৮৮)।
ফল: ম্যাচ ড্র।
