বই পড়লে মস্তিষ্ক উদ্দীপিত হয়

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৬

শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানব সভ্যতার সকল জ্ঞান জমা হয়ে আছে বইয়ের ভেতর। বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাবার দরকার, তেমনি জীবনকে গতিময় করার জন্য দরকার জ্ঞান। একটি ভালো বই একজন মানুষকে পালটে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।  ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, যে জাতি যত জ্ঞান চর্চা করে তথা গ্রন্থাগার গড়ে তোলে, সে জাতি তত উন্নত। বাংলাদেশেও গড়ে উঠেছে অনেক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে নান্দনিক গ্রন্থাগার।  কিন্তু একটি বিষয় খুব অনুতাপের যে, এদেশের শহর এবং বিশেষত গ্রাম-অঞ্চলে অনেক লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যথাযথ তদারকির অভাবে। জ্ঞান চর্চা এবং জাতি বিকাশের এই স্থানে গড়ে উঠেছে আড্ডার আসর অথবা আঞ্চলিক রাজনৈতিক কার্যালয়। ইউরোপ কাঁপানো নেপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল।’ কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সমৃদ্ধশীল লাইব্রেরিতেও ষাট হাজার বই নেই। এদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক এবং চাকরি সংশ্লিষ্ট কিছু বই ছাড়া অন্য বই খুব কমই পড়ে, যেটি দেশকে পিছিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। জন মেকলে বলেছিলেন, প্রচুর বই নিয়ে গরিব হয়ে চিলেকোঠায় বসবাস করব, তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালোবাসে না। অথচ আমরা বই কিনতে এবং পড়তে কুণ্ঠিতবোধ করি। একজন মানুষ ভবিষ্যতে কী হবেন সেটি অন্য কিছু দিয়ে বোঝা না গেলেও তার পড়া বইয়ের ধরন দেখে তা অনেকাংশ বোঝা যায়। কিন্তু আমরা শিশুদের শেখাই—পড়াশোনা করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে। যার বই পড়ার অভ্যাস নেই, সে জগতের অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। গবেষণা করে দেখা গেছে, বই পড়লে মস্তিষ্ক উদ্দীপিত হয়, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। এতে করে আলঝেইমারের ঝুঁকি কমে। শরীরের জন্য যেমন শারীরিক কসরত দরকার, তা না হলে শরীর বিকল হয়ে যায়, মস্তিষ্কের জন্যও তেমনি ব্যায়াম দরকার। মস্তিষ্কের এই ব্যায়াম হয় বই পড়ার মাধ্যমে। যখন আমরা কোনো বই পড়ি, তার ভিতরকার তথ্যগুলো বা গল্পটি আমরা মনে করার চেষ্টা করি যা মস্তিষ্কের স্মৃতিকোষগুলো আরো সমৃদ্ধ করে এবং কোষগুলোর মাঝে নতুন নতুন সংযোগ তৈরি করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয় এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা বাড়ায়। সুতরাং নিজে বই পড়ুন এবং অন্যকে বই পড়তে উত্সাহিত করুন।

মো. আশিকুর রহমান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া