কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে কটিয়াদী উপজেলা সদরে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকঢোলের হাট।
জনশ্রুতি আছে ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ই সর্বপ্রথম তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। পূজা উপলক্ষ্যে রাজপ্রাসাদ থেকে সুদূর বিক্রমপুর (মুন্সীগঞ্জ) পরগনার বিভিন্ন স্থানে বার্তা পাঠানো হয় ঢাকঢোল বাঁশিসহ বাদ্যযন্ত্রীদের আগমনের জন্য। বাদ্যযন্ত্রীরা কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কের পাশে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাটে পূজার দুদিন আগে এসে পৌঁছতেন। পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী মসুয়া গ্রামে চলচ্চিত্রকার সত্যজিত্ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িতে ধুমধামে পূজা শুরু হয়। সেই সঙ্গে চলে বিভিন্ন পূজার বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা। তবে নানা কারণে যাত্রাঘাট থেকে পরিবর্তন করে পাঁচ কিলোমিটার দূরবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কটিয়াদী পুরোনো বাজারে প্রেসক্লাবের সামনে বিরাট ঢাকের হাট গড়ে উঠে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান কেয়া ও ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত বলেন, ঢাকীদের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান বলেন, ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাটের জন্য কটিয়াদী পুরাতন বাজারে স্থান নির্ধারণ করে শেড নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে।
