গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
সংস্কার ও মেরামতের এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। সংস্কার-মেরামতের পরপরই ভাঙতে শুরু করে রাস্তার দু’পাশ। মাঝরাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। পুরো সড়ক ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় দেবে গেছে রাস্তাটি। সড়কটিতে এখন চলাচল করা বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সড়কটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দিকে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৪১ টাকায় সংস্কার ও মেরামত করে। রাস্তাটি সংস্কারের পরপরই এমন অবস্থায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে সড়ক পরিদর্শনে দেখা যায়, গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্বকাউরাট এলাকায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাক আটকে যাচ্ছে। রাতে এ সড়কে যানবাহন চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দূর্গাপুর থেকে কিশোরগঞ্জ, ভৈরবগামী বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক এ সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করতে রাস্তার প্রবেশমুখে টাঙানো হচ্ছে সাইনবোর্ড। ‘১০টনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচল এ সড়কে চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। সড়কটির কাউরাট মোড়, পশ্চিমকাউরাট, গাভীশিমুল, ইটখলা এলাকায় ৩৭টি পয়েন্টে রাস্তা দেবে গেছে। কাউরাট মোড়ে, পূর্ব কাউরাট রাস্তা ও গাভীশিমুলের ৯টি স্থানে রাস্তা ধসে গেছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে ১৬টি স্থানে। এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, সরকার সারাদেশে প্রচুর উন্নয়ন কাজ করছে। কিন্তু সে উন্নয়ন টেকসই নয়। তাই সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, জনগণ সঠিক সেবা পাচ্ছে না। রাস্তার তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, রাস্তাটিতে সর্বোচ্চ ১০ টনের বেশি যানবাহন যেন না চলে সে জন্য সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল নিয়ে গেলেও জামানতের টাকা রয়েছে। সড়কের ভাঙন দেখে ঠিকাদারকে পত্র দেওয়া হয়েছে। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেরামত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
