কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের পরের দিন রাতে ওইসব খুঁটি গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গতকাল সোমবার পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে বিদ্যুত্ বিভাগসহ স্থানীয় এলাকায় বেশ তোলপাড় চলছে। এদিকে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনকারী চক্রটি এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (বিবিবি)-১ এর অধিভুক্ত জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কলেজ (ভিক্টোরিয়া কলেজ ডিগ্রি শাখা) ফিডারের ছায়াবিতান এলাকায় চলমান ঠিকাদারি কাজের জন্য ৯ মিটারের দুটি খুঁটি রাখা হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ওই দুটি খুঁটিসহ মোট তিনটি খুঁটি বিউবো বিবিবি-১ কর্তৃপক্ষের অগোচরে নিয়ে বিবিবি-৩ এর অধিভুক্ত দৌলতপুর এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে কুমিল্লা বিবিবি-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল্লাহ জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর কলেজ ফিডারের ছায়াবিতান এলাকায় চলমান ঠিকাদারি কাজের জন্য ৯ মিটারের দুটি খুঁটি সেখান থেকে কে বা কারা নিয়ে বিবিবি-৩ এর অধীন দৌলতপুর এলাকায় স্থাপন করে। ওই দুটি খুঁটি উদ্ধারপূর্বক ফেরত প্রদানের জন্য বিবিবি-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বিউবো কুমিল্লার প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। বিবিবি-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আহমেদ জানান, ছায়াবিতান এলাকাটি বিবিবি-১ কার্যালয়ের অধিভুক্ত, তাই এর দায়দায়িত্ব ঐ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের। এছাড়া ওই কার্যালয়ের একজন কর্মচারী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জেনেছি, তার নাম বলতে পারব না। তবে এ ঘটনায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিবিবি-৩ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এজহারুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন—বিবিবি-১ এর সহকারী প্রকৌশলী সুবাস চন্দ্র দেবনাথ ও বিবিবি-৩ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান। তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী এজহারুল ইসলাম জানান, আমরা রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, সেখানে কোনো খুঁটি দেখা যায়নি। এখনো ঘটনার তদন্ত চলছে, তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিউবো কুমিল্লার প্রধান প্রকৌশলী মো. সরদার আজম জানান, ঘটনার সঙ্গে যে কেউ জড়িত থাকুক না কেন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
