কোনো শক্তিই চীনের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না :শি জিনপিং

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৬

কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তি উদ্যাপন

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, পৃথিবীর কোনো শক্তিই চীনের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গতকাল গণচীন (পিপলস রিপাবলিক অব চায়না) প্রতিষ্ঠা তথা কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের শুরুতে তিনি এমন কথা বলেন। ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর চীনা কমিউনিস্টদের তত্কালীন নেতা মাও সেতুং গণচীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গণচীনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্ সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামরিক প্রদর্শনীর সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো শক্তিই চীনা জনতা ও জাতির অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারেনি।’ বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যে জায়গায় দাঁড়িয়ে মাও গণচীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মাওয়ের মতো স্যুট পরে শি জিনপিং বক্তব্য রাখেন। দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই মাও স্যুট পরে ছিলেন। বক্তব্যে মাওয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান শি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি ঐক্য, চলমান সংগ্রাম ও চীনের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। এরপর একটি গাড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এ সময় মাঝে মাঝে হাত নাড়েন তিনি আর সৈন্যরা জোরালো শব্দে আনুগত্য প্রকাশ করে জবাব দেন। খবর বিবিসি ও এএফপির

তিয়ানআনমেন স্কয়ারে ১৫ হাজার সৈন্য কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছে এবং চীনের সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী হয়েছে। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুচকাওয়াজে ৫৮০টি সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছে এবং ১৬০টি এয়ারক্রাফট আকাশে উড়েছে। নিজেদের বানানো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, স্টিলথ ও মনুষ্যবিহীন যন্ত্রের সক্ষমতার এই প্রদর্শনী নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) খুব উত্ফুল্ল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

চীনের দাবি, আন্তর্জাতিক অবস্থানের সঙ্গে সংগতি রেখেই তারা একটি ‘শক্তিশালী সামরিক বাহিনী’ বানাচ্ছে, যা একই সঙ্গে বিশ্বের প্রধান প্রধান সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার সঙ্গে তাদের দূরত্ব কমিয়ে আনবে। গত এক দশকে দেশটি প্রতি বছরই তাদের সামরিক বাজেট ১০ শতাংশ করে বাড়িয়েছে। এ বছর তাদের সামরিক বাজেট দাঁড়িয়েছে ১৬৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেছেন, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেইজিং ‘পেশিশক্তি’ দেখাচ্ছে না বা এর প্রয়োজনীয়তাও দেখছে না। ‘শান্তিকামী ও দায়বদ্ধ চীনকে’ উপস্থাপন করাই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলোতে চীন ‘উঠে দাঁড়িয়েছে, ধনী হয়েছে এবং আগের দশকগুলো থেকে শক্তিশালী হয়েছে’—এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অন্যতম ঝাং গে বলেন, ‘প্রধান বিষয় হলো চীনের কাহিনিগুলো বলা এবং পার্টি ও দেশের ওপর চীনা জনগণের বিশ্বাস তুলে ধরা।’ চীনা কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক পদ্ধতির, যাকে ‘চীনা ধরনের সমাজতন্ত্র’ বলা হচ্ছে, উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং এই পদ্ধতি লাখ লাখ লোককে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। তবে দশকে চীন অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও দেশটিতে নিয়ন্ত্রণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ।