ডিএমপির আট ওসিসহ ১১ কর্মকর্তার বদলি

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫১

বিশেষ প্রতিনিধি

পুলিশের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ক্যাসিনো চালানো মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুকসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের আট থানার ওসিসহ ১১ কর্মকর্তাকে (ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার) বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি সদর দপ্তরের এক আদেশে এ বদলি করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বদলি হওয়া ওসিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে ১০/১৫ বছর ধরে ঘুরেফিরে ঢাকায় থাকা এবং অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তবে মহানগর পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেছেন, বদলি হওয়া ওসিদের মধ্যে চার জন মাত্র পুরোনো। তবে তিনি বলেন, যাদের রাখা হয়েছে তাদের বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়েই অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজধানীর কোনো থানায় হুট করে অনভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যায় না। ঢাকার থানাগুলোর ইন্সপেক্টর-তদন্ত এবং ইন্সপেক্টর-অপারেশন্স এবং ইন্সপেক্টর-অ্যাডমিনদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যারা বদলি হলেন তারা হলেন ভাটারা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিককে পল্টন মডেল থানায়, কলাবাগান থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খানকে মতিঝিল থানায়, খিলক্ষেত থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে মিরপুর মডেল থানায়, শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানকে কোতোয়ালি থানায়, উত্তরা-পূর্ব থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পরিতোষ চন্দ্রকে কলাবাগান থানায়, বিমানবন্দর থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তারুজ্জামানকে ভাটারা থানায়, সবুজবাগ থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজুল আলমকে শ্যামপুর থানায় এবং বনানী থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনকে খিলক্ষেত থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একই আদেশে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুককে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগে, মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দাদন ফকিরকে গোয়েন্দা দক্ষিণ ও কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমানকে গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার তার বক্তব্যে ওসিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এর পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমজমাট জুয়া এবং ক্যাসিনোর আসর পাওয়া যায়।

মতিঝিল থানার পেছনে ঢাকার একটি পরিচিত ক্লাবে জুয়ার আসরের বিষয়টি উদ্ঘাটনের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এজন্য অনেকেই মতিঝিল থানার ওসির দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তোলেন। এছাড়া সম্প্রতি এক তরুণীকে চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক। তার পদ খালি থাকায় সেখানে নতুন ওসি দেওয়া হয়েছে।