বান্দরবান প্রতিনিধি
অবশেষে বান্দরবানে চালু হলো পাহাড়ে উত্পাদিত চা প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য ‘চা’ কারখানা। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝেরপাড়ায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘চা’ কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান পিএসসি।
এসময় অন্যদের মধ্যে চা বোর্ডের সচিব কুল প্রদীপ চাকমা, বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল হাসান ইমরান পিএসসি, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম খান, চা বোর্ডের সদস্য ইরফান শরিফ, বান্দরবান চা বাগান মালিক সমিতির সভাপতি মংক্য চিং চৌধুরী, দৈনিক সচিত্র মৈত্রী পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওসমান গনি, বান্দরবান চা বোর্ডের কর্মকর্তা আমির হোসেনসহ চা চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মো. জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান বলেন, পাহাড়ে উত্পাদিত চা পাতা অর্গানিক চা এর ব্র্যান্ডিং হিসেবে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হবে। সার ও কিটনাশক মুক্ত উন্নত জাতের চা এর বিশ্বব্যাপী কদর রয়েছে। তাই অর্গানিক চা হিসেবে বান্দরবানের চা একটি ব্র্যান্ডিং। স্থানীয় চাষিদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা চা কারখানা চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের চা শিল্পের সম্ভাবনা আরো বেড়ে যাবে। পরিবর্তন আসবে অর্থনৈতিক ভাবেও। চাষিরা তাদের ন্যায্য দাম পাবেন।
চা বোডের্র সূত্র মতে, ২০০২ সালে প্রকাশিত জরিপে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে ২৫ হাজার ২২০ হেক্টর, খাগড়াছড়িতে ১৪ হাজার ৯৩৪ হেক্টর এবং রাঙ্গামাটিতে ৬ হাজার ৭২৫ হেক্টর জায়গায় ক্ষুদ্রায়নে চা আবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০৪ সালে ক্ষুদ্রায়তনে চা চাষ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রদক্ষেপ নিলেও নানা সমস্যায় ২০০৫ সালের জুন থেকে মাঠ পর্যায়ে নার্সারি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। চা উত্পাদন শুরু হয় ২০০৮ সালে। বান্দরবান জেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে চা চাষ করা হলেও বর্তমানে মাত্র ৭০ হেক্টর জমিতে চা উত্পাদন হচ্ছে।
