শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
প্রায় ৪ হাজার প্রভাবশালী দখলদারের ‘দখল প্রতিযোগিতায়’ বিপন্ন হতে চলেছে বরিশাল বিভাগের নদনদীগুলো। এরইমধ্যে নদীর পাড়ের শত শত একর জমি দখল করে নানা স্থাপনা গড়ে তুলেছে দখলদাররা। ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নদীর দুপাড়ের জোয়ারকালীন এলাকার ৫০ ফুট পর্যন্ত ‘ফোরসোর এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিতকরণ ও দখল মুক্ত রাখার বিধান থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চেয়ারম্যান কর্তৃক দেশের ৬৪টির বেশি নদনদী পর্যবেক্ষণ করে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় অবৈধ দখলদারদের প্রায় ৪ হাজার জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দখলের শিকার অধিকাংশ নদীই জেলা শহরের বাহিরে অবস্থিত। শহরাঞ্চলের দখলদারদের তালিকা অনেকটাই বাদ পড়েছে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে ফোরশোর (নদীর লো ওয়াটার এবং হাই ওয়াটার লেভেলের মাঝ থেকে ৫০ ফিট নদীর পাড় পর্যন্ত) রয়েছে তার শতকরা ৩০ ভাগও বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ন্ত্রণে নেই। এই ফোরশোর বিভিন্ন ব্যক্তি নামে-বেনামে বিভিন্ন মহল থেকে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ‘মালিক’ সেজে দখল করে আছে। এসব অবৈধ দাখিলকারীরা নদীকে দূষণসহ দখল কার্যক্রমকে আরো ত্বরান্বিত করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে জেলা প্রশাসক ও বিআইডব্লিউটিএ’র সমন্বয়ে ইতিপূর্বে যৌথ জরিপ হলেও সঠিকভাবে মৌজাভিত্তিক ফোরশোর হস্তান্তরিত হয়নি। বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্মপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার সাংবাদিকদের জানান, আগামী দুই/এক দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএর বিশেষজ্ঞ টিম আসবে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর সম্পত্তির সীমা নির্ধারণের জন্য। ৫ অক্টোবরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে বরিশালের জেলায় নদ-নদী/খাল যৌথ সার্ভের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়।
