জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও উঠছে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:২২

ক্যাসিনো, মাদক, জুয়া, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে সাধারণ জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার এই ঘোষণা দিলেও এক শ্রেণির অসাধু লোকজন বিভিন্ন স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের টেলিফোন করে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা কোনো সংস্থার লোকজন এসব হয়রানির সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং ক্ষমতাসীন দলেরই কতিপয় লোকজন এবং গণমাধ্যমের কেউ কেউ এই ভীতি ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি পারিবারিকভাবে বৈধ ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। ক্যাসিনো, মাদক, জুয়া, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু গত কয়েক দিনে সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ কেউ তাকে ফোন করে ভয় দেখিয়ে বলেছেন, ‘অন্যথায় অমুক সংস্থার কাছে আপনার নাম পাঠিয়ে দেব।’ এই জনপ্রতিনিধি ইত্তেফাকের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, এই ধরনের হয়রানির বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে সজাগ থাকতে হবে। যেন বিভ্রান্তির কারণে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য অভিযান পরিচালনাকরী র্যাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, একটি সরকারি দপ্তরের একজন কর্মচারী ফোন করে তাকে বলেছেন, ‘কী ভাই অনেক দিন তো কোনো খোঁজখবর রাখেন না। এখন কিন্তু অভিযান শুরু হয়েছে। আপনার নাম কী তালিকায় দিয়ে দেব নাকি?’ ফোনকারী ঐ সরকারি কর্মচারীর কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযান শুরুর আগে-পরে বারবারই বলেছেন, ‘যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক-জুয়ার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। তারা যদি আওয়ামী লীগেরও হয়ে থাকে তাহলেও ছাড় নেই।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ‘যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুবিধাভোগী তাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে।’

একাধিক জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী গত কয়েক দিনে ইত্তেফাকের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সরকারের চলমান অভিযানকে তারা সর্বাত্মক সমর্থন করছেন। দেশের সাধারণ মানুষও এই অভিযানে খুশি। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক- এটা সবারই প্রত্যাশা। কিন্তু অভিযান চলার মধ্যেই একটি চক্র সাধারণ জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। এতে কোথাও কোথাও বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তারা বলেন, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকা জরুরি।