একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (কক্সবাজার-১) চকরিয়া-পেকুয়া আসনে ঐক্যফ্রন্ট, মহাজোট, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ আটজন প্রার্থীর মধ্যে রবিবার শেষদিনে কেউই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আট প্রার্থীর মধ্যে সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। তিনি বলেন, রবিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিলো। এইদিন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা আটজন প্রার্থীর কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আট প্রার্থীই এখন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
জানা গেছে, (কক্সবাজার-১) চকরিয়া-পেকুয়া আসনে সংসদ নির্বাচনে লড়তে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ও স্বতন্ত্রসহ আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। প্রার্থীরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম, জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান সাংসদ মো. ইলিয়াছ, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হাজি আবু মো. বশিরুল আলম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (বিএনএ) ফয়সল চৌধুরী, ইসলামী শাসনতন্ত্রের মাওলানা আলী আজগর, স্বতন্ত্র বদিউল আলম ও তানিয়া আফরিন।
আরো পড়ুন: পিরোজপুরে আপেল প্রতীকে মাঠে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী
নির্বাচনের মাঠে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ থাকলেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মহাজোটের আওয়ামী লীগ, অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ও ওয়ার্কার্স পার্টির তিন প্রার্থী কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। তবে মাঠ পর্যায়ে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য সাবেক চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।
অপরদিকে রবিবার জাতীয় পাটির (এরশাদ) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, তাদের দলের জনপ্রিয় প্রার্থীরা মহাজোটের শরীক হিসেবে ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ওই ৩০টি আসনের মধ্যে জাতীয় পাটির ব্যানারে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন সেই ধরণের কেউ নেই। অবশ্য ৩০ আসনের পাশাপাশি জাতীয় পাটির প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ১৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
সেই হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়া আসনের কোটায় চকরিয়া-পেকুয়া আসনে বর্তমান এমপি জেলা জাতীয় পাটির (এরশাদ) সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবেন এটা অনেকটা পরিষ্কার।
অন্যদিকে মহাজোটের অপর শরীকদল বাংলাদেশের ওয়াকার্স পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি হাজি আবু মো. বশিরুল আলম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। শেষদিনেও তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে হাতুড়ি প্রতীকে তিনিও এ আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হাজী আবু মো. বশিরুল আলম বলেন, নির্বাচন হবে ৩০ ডিসেম্বর। মাঝে অনেক সময় রয়েছে। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাফর আলম বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নির্বাচন করতে আমাকে অনুমতি দিয়েছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নির্বাচন বোর্ড। জোট-মহাজোট যাই হোক আমি আওয়ামী লীগ নেতা, আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিচয় দিয়েই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো। সেই লক্ষ্যে কাজ করে আসছি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
