বাংলা বানানের নিয়ম কানুন

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩২

 

জিয়াউল হাসান সবুজ, সহকারী শিক্ষক

গজালিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,

বাগেরহাট

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে বাংলা বানানের বিভিন্ন নিয়ম প্রকাশ হচ্ছে। গত কয়েক পর্ব থেকে আমরা প্রমিত বাংলা বানানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জেনে আসছি। আশা করছি তোমরা নিয়মিত অনুসরণ করছো। এসো দেখে নেই আজকের বিষয়।

পূর্ব প্রকাশের পর-

২১। ইংরেজিতে anyone বুঝালে বাংলায় হবে ‘কোনো’। যেমন: যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।

২২। এবার আমরা শিখব চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার। কোথায় চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করব বা কোথায় করব না। আমরা তিন কারণে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করব। যথা:

ক) যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে এসেছে, সেসব শব্দে নাসিক্য বর্ণ (ঙ,ঞ,ণ,ন,ম,ও ং) থাকলে এবং বাংলা ভাষায় সেগুলো বাদ পড়লে, বাদ পড়া বর্ণের আগের অক্ষরে চন্দ্রবিন্দু হবে। যেমন: বঙ্কিম থেকে বাঁকা, অঙ্কন  থেকে আঁঁকা, পঞ্চ থেকে পাঁচ, কণ্টক থেকে কাঁটা, ষণ্ড  থেকে ষাঁড, যন্ত্র থেকে যাঁতা, কন্থা থেকে কাঁথা, খান  থেকে খাঁ, ইন্দুর থেকে ইঁদুর, বন্ধন থেকে বাঁধন, অন্ধকার  থেকে আঁধার, গ্রাম থেকে গাঁ, বংশী থেকে বাঁশি ইত্যাদি।

খ) সম্মানসূচক সর্বনামের ক্ষেত্রে ও চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার হয়। যেমন:১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে কিছু বিপথগামী সেনা অফিসার উঁনাকে সপরিবারে নিহত করেছিল। তিঁনি বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়তে স্বপ্ন দেখেছিলেন।

গ) দ্বিরুক্ত বা ধ্বনাত্মক শব্দসমূহেও চন্দ্রবিন্দু হয়। যেমন: ভোঁভোঁ, সাঁসা ঁইত্যাদি।

বাংলা বানানে অর্থের সমস্যা না হলে শব্দান্তেও-কার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যেমন: ছিল, করল, যেন, কেন, আছ, গেল, শত, যত, তত, কত, এত ইত্যাদি। আবার অর্থের প্রয়োজনেও-কার ব্যবহারও করতে পারেন। যেমন: মতো, হতো, কেনো, ভালো, কালো, আলো, বারো ইত্যাদি।

এর একটা বাস্তব উদাহরণ হলো: তুমি কাল আসবে। এখানে যদি আমি বলি; তুমি কালো আসবে, সেক্ষেত্রে বাক্যটা শুনতে ভালো শোনাবে না বা অর্থের পরিবর্তন হয়ে যাবে। আবার যদি বলি; মেয়েটি দেখতে কাল, তাহলেও বাক্যটি অসুন্দর দেখায় বা শ্রুতিমধুর হয় না, এখানে লিখতে হবে -মেয়েটি কালো।

২৩। শব্দান্তে বিশেষণবাচক বা দোষ-গুণ বোঝায় এরকম ‘আলি’ থাকলে তা অবশ্যই ই-কার হবে। যেমন: সোনালি, রূপালি, বর্ণালি, হেঁয়ালি, খেয়ালি, মিতালি ইত্যাদি।

২৪। অদ্ভুত এবং ভুতুড়ে বানানে ছাড়া সকল ভূত বানানে অবশ্যই ঊ-কার হবে। যেমন: ভূত, ভস্মীভূত, বহির্ভূত, ভূতপূর্ব ইত্যাদি।

২৫। হীরা ও নীল অর্থে সকল বানানে ঈ-কার হবে। যেমন: হীরা, হীরক, নীল, সুনীল, নীলক, নীলিমা ইত্যাদি।

২৬। নঞর্থক পদগুলো (নাই, নেই, না, নি) মূলশব্দ  থেকে আলাদা করে লিখতে হবে। সে বলে নাই, ইমতিয়াজ বলেনি, আমার ভয় নেই, সে যাবে না, সাইফুল আসবে না ইত্যাদি। ‘নি’ এর আলাদা কোনো অর্থ নাই। তাই ‘নি’ শব্দের সাথে হবে।

২৭। অ-তত্সম অর্থাত্  দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দেই-কার ব্যবহার হবে। যেমন: সরকারি, তরকারি, গাড়ি, বাড়ি, দাড়ি, শাড়ি, চাবি (পর্তুগিজ শব্দ), চুরি, চাকরি, মাস্টারি, মালি, পাগলামি, পাগলি, বোমাবাজি, দাবি, হাতি, বেশি, খুশি, হিজরি, আরবি, ফারসি, ইংরেজি, জাপানি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, ছুরি, টুপি, দিঘি, কেরামতি, রেশমি, পশমি, পাখি, ফরিয়াদি, আসামি, কুমির, নানি, দাদি, বিবি, চাচি, মাসি, পিসি, দিদি, বুড়ি, নিচু (ছোট লোক বুঝাতে “নীচ” ব্যবহার হয়) ইত্যাদি।

২৮। ত্ব, তা, নী, ণী, সভা, পরিষদ, জগত্, বিদ্যা, তত্ত্ব ইত্যাদি প্রত্যয়গুলি শব্দের শেষে যোগ হলে যেশব্দের সাথে যোগ হবে তার সাথে শব্দান্তে ঈ-কার থাকলে তা পরিবর্তন হয়েই-কার হবে। যেমন: দায়ী ু দায়িত্ব, প্রতিদ্বন্ধী  প্রতিদ্বন্ধিতা, প্রার্থী- প্রার্থিতা, দুঃখী- দুঃখিনী, অধিকারী- অধিকারিণী, সহযোগী- সহযোগিতা, মন্ত্রী থেকে মন্ত্রিত্ব, মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ, প্রাণী থেকে প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিজগত্, প্রাণিতত্ত্ব ইত্যাদি।

                              পরের অংশ আগামী শনিবার