ইত্তেফাক রিপোর্ট
ক্রাউড ফান্ডিং হলো বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক বড়ো জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থসংগ্রহ করে ফান্ড গঠন করা হয়। ছোটো ও বড়ো প্রকল্পের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয় এ পদ্ধতিতে। এসব ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডিন এবং ব্লগ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাংকিং খাতে ক্রাউড ফান্ডিংয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোরারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বিশ্বস্ততা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মূল ভিত্তি। কিন্তু এক দিনে এ বিশ্বস্ততা তৈরি করা সম্ভব নয়। কোনো কারণে বিশ্বস্ততা নষ্ট হলে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে ক্রাউড ফান্ডিং ব্যবস্থায় সফলতা পেতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ক্রাউড ফান্ডিং অ্যান্ড ইটস ইমপ্লিকেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী।
বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের শুরুতে অর্থায়ন ঘাটতি মেটাতে ক্রাউড ফান্ডিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের অর্থায়নে কিছু ঝুঁকি এবং সমস্যা রয়েছে। এমনকি ক্রাউড ফান্ডিং পোর্টালে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় বিশ্বস্ততা। যা খুব সহজে অর্জন করা সহজ নয়। এখনো এ বিষয়ে কোনো রেগুলেশন তৈরি করা হয়নি। তবে এখনই উপযুক্ত সময় ক্রাউড ফান্ডিং বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে ক্রাউডফান্ডিং ব্যাংক ফান্ডের একটি উত্স হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। উন্নত দেশগুলো অনেক দক্ষতার সঙ্গে এই উত্সটি ব্যবহার করে বহু প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা সফলতার সঙ্গে তৈরি করেছেন। এমনকি বাংলাদেশেও কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যায়ন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর আছে অপার সম্ভাবনা। ক্রাউডফান্ডিং সম্পর্কিত কোনো নীতিমালা নেই তথাপি ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাংকের আস্থা এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে এই বিষয়টি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের অনেক ভালো উদাহরণ রয়েছে। তবে সাবধান থাকতে হবে অপব্যবহার যাতে না হয়। এজন্য সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন।
অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, ক্রাউড ফান্ডিং একটি ভালো উদ্যোগ, তবে কেউ অপব্যবহারের সুযোগ না পায়—সে বিষয়টি নজর রাখতে হবে। আইন করে শুধু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগ রাখতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, অনানুষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ক্রাউড ফান্ডিং একটি পুরোনো অর্থায়ন ব্যবস্থা। আহছানিয়া মিশন এবং কিডনি ফাউন্ডেশন এর বড়ো উদাহরণ। কিন্তু এটি প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
