স্পোর্টস ডেস্ক
ম্যাচের আগে ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্ষা ভোগলে বলেছিলেন, ‘রোহিত টেস্টের ওপেনিং পজিশনে থিতু হয়ে গেলে ভারতীয় দলের অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়।’ কথাটা রোহিত শর্মা শুনে মাঠে নেমেছিলেন কি না জানা যায়নি, তবে তিনি নিজেকে ঘিরে সকল সমালোচনার জবাবটা ঠিকই দিয়ে ফেলেছেন গতকাল।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ভারতীয় এই ওপেনার। তিনি তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগারে পৌঁছান ১৬০তম ডেলিভারিতে। শেষ অবধি ১৭৪ বল খেলে ১১৫ রান করে অপরাজিত ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পাওয়ার দিনে হাঁকিয়েছেন ১২টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। মানে ওপেনার হিসেবে টেস্ট দলে থিতু হওয়ার পরীক্ষাটা আপাতত পাশ করে গেলেন তিনি। আগে তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেও ওপেনার হিসেবে এটাই তার প্রথম সেঞ্চুরি।
ম্যাচের আগে এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই প্রস্তুতি ম্যাচটা ভালো হয়নি রোহিতের। রানের খাতা খোলার আগেই সে দিন তিনি ফিরেছিলেন সাজঘরে। তারপরও যে তাকে একাদশে সুযোগ দিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট—সেই সিদ্ধান্তকে চমত্কৃত বললেও কম বলা হয়। বলা ভালো, অনেক সমালোচনা হজম করেই তাকে একাদশে রেখেছিলেন কোচ রবি শাস্ত্রী ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
সেই ভরসার প্রতিদানটা অক্ষরে অক্ষরেই দিয়েছেন রোহিত। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের এই নিয়মিত সদস্য টেস্টেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন দারুণভাবে। দিনের একদম শুরু থেকেই তিনি প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য রেখে খেলেছেন।
অপর প্রান্ত থেকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল। তিনি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি পাওয়ার পথে আছেন। ১১টি চার ও দুটি ছক্কায় তিনি ৮৪ রান করে অপরাজিত আছেন। দুই ব্যাটসম্যান মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ২০২ রান তুলেছে। ভারতের জন্য শুরুটা এর চেয়ে ভালোভাবে হওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না।
টসে হেরে বোলিং করতে নামা প্রোটিয়া বোলাররা গতকাল ব্যাটসম্যানদের সামনে কোনো বাধা হয়েই দাঁড়াতে পারেননি। বিশাখাপত্তনমের উইকেট থেকে কোনো বোলারই কোনো বাড়তি সুবিধা পাননি। দুই ব্যাটসম্যানকে কোনো রকমের সমস্যায় ফেলতে পারেননি ফিল্যান্ডার-রাবাদারা। বরং ৫৯ ওভার এক বল বোলিং করে তারা ছিলেন উইকেট শূন্য। এরপর তাদের আক্ষেপ আরো বাড়িয়ে নামে বৃষ্টি। ফলে, দিনের মোটামুটি এক সেশন বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দিতে বাধ্য হন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।
