স্পোর্টস রিপোর্টার
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট, ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের আগে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ছিলেন ইমরুল কায়েস। ছেলের অসুস্থতার খবর শুনে হুট করেই ক্যাম্প ছাড়তে হয় তাকে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়া ছেলেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমাতে হয়েছে এই ক্রিকেটারকে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিত্সা শেষে ছেলে শোবাইবকে নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন ইমরুল।
পরে ছেলেকে নিয়ে আরেক দফা মালয়েশিয়াও যেতে হয়েছে। দুই জায়গায় কাউজিমা, রোজেলা নামক রোগের কথা বলেছেন চিকিত্সকরা। যেটি বাংলাদেশে প্রচলিত হাম রোগের সদৃশ। ইমরুলের ছেলে এখন অনেকটা সুস্থ। ঢাকার বাসায় অবস্থান করছেন। এর মাঝে একটা হোম সিরিজ হারিয়ে গেছে বাঁহাতি এই ওপেনারের ক্যারিয়ার থেকে। তামিম ইকবাল না থাকায় আফগানদের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলার সুযোগ এসেছিল। ছেলের অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে চান এবং নিজের সেরাটা দিতে মানসিকভাবে তৈরি ইমরুল।
এবার মাঠের ক্রিকেটে ফেরার লড়াইয়ে মশগুল অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। গত দুদিন ধরে মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছেন তিনি। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) দিয়েই ২২ গজে ফিরবেন ইমরুল। খুলনা বিভাগের হয়ে এনসিএলে ভালো করার আশায় আছেন তিনি।
গতকাল অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের ইমরুল বলেন, ‘টেস্ট সিরিজের আগে এমন একটা সুযোগ (লংগার ভার্সন খেলা) পাওয়া প্রতিটি প্লেয়ারের জন্য অবশ্যই ভালো। এমনকি যারা ‘এ’ দলের হয়ে খেলছে তাদের জন্য বড়ো সুযোগ চার দিনের ম্যাচ খেলা। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই ফোকাস থাকব এবং চেষ্টা করব এনসিএলে নিজের সেরাটা দেওয়ার।’
এনসিএলে খেলতে হলে এবার বিপ টেস্ট দিতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। সেখানেও অন্তত ১১ স্কোর তুলতে হয়। ইমরুল আগামীকালই বিপ টেস্ট দিতে পারেন। ৩২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ফিটনেস টেস্ট কিন্তু আমাদের জন্য নতুন কিছু না। প্রতিটা ক্যাম্প শুরুর আগে টেস্ট দিয়েই আমরা নির্বাচনে আসি। যারা জাতীয় দলের বাইরে আছে তাদের জন্য হয়তো একটু চ্যালেঞ্জিং। এটা অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো। অনেক প্রতিযোগিতা বাড়বে, অনুপ্রেরণা আসবে যারা সিনিয়র প্লেয়ার আছে তাদের জন্য। আমরাও চেষ্টা করব নিজেদের ফিটনেসের সেই লেভেলটা ধরে রাখার জন্য।’
অনেক দিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন ইমরুল। এখন শুধু ক্রিকেটেই মনোযোগী হতে চান তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘গত এক-দেড় মাস ধরে সম্পূর্ণ ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। বাচ্চার অসুস্থতার কারণে কোনোভাবেই এদিকে ফোকাস করতে পারছিলাম না। এখন আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছে সে। চেষ্টা করব শতভাগ সময় দিয়ে ক্রিকেটে ফেরার।’
আগামী মাসে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। এই সফরে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট দলে ফেরার আশা ছাড়ছেন না ইমরুল। তিনি বলেছেন, ‘আশা তো সবাই করে। আশা নিয়েই সবাই সামনে আগায়। আমিও সেই আশা নিয়েই অপেক্ষায় আছি। যদি সামনে সুযোগ আসে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’
