সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
প্রিমিয়ার লিগ হতে রেলিগেশন হওয়া নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব বাফুফের যুব (অনূর্ধ্ব-১৮) ফুটবলে বাজিমাত করেছে। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চমক দিয়েছে। কাল বিকালে কমলাপুর স্টেডিয়ামে ফাইনালে নোফেল ১-০ গোলে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নোফেলের খেলোয়াড়রা মাঠে আনন্দ উল্লাস করছিলেন। সাইফের খেলোয়াড়রা তখন মাঠের পাশে মাথা নিচু করে ছিল। নোফেলের কোচ রিদনকে ঘিরে সংবাদ মাধ্যম। সাইফের কোচ কামাল বাবু যেন মৃত্যুপুরীতে। সাইফের যুব দলটা তিন বছর ধরে ঘি-মাখন খেয়ে বড়ো হচ্ছে। তাদের সঙ্গে লড়াই করে অভাব-অনটনে গড়া নোফেল ছোঁ মেরে ফাইনাল জিতে গেল। না মানতে পেরে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল তরুণ ফুটবলারদের গড়ার কারিগর কামাল বাবুর। ফাইনাল হেরে যাওয়ায় রাগেক্ষোভে প্রথমে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথাই বলতে চাইলেন না। তারপরও বলেছেন সবার অনুরোধে। কিন্তু তার কণ্ঠে নানারকম অজুহাতের কথাই শোনা গেল। অধিনয়ায়ক ইমন মোল্লা এক কথা বলেছেন, ‘আমরা গোল মিস করেছি।’
প্রিমিয়ার লিগ হতে রেলিগেশন হয়ে নেমে যাওয়া নোফেল দলই গড়তে চাইছিল না। মন খারাপ করে ছিলেন কর্মকর্তারা। অনেক অর্থকড়ি খরচ হয় ফুটবল দলের পেছনে। সব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ছোটদের নিয়ে দল গড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার টার্গেট ছিল না। এত অভাব- অনটনের মধ্যে ভালো দল গড়াও কঠিন। এবছরই ফুটবল হতে বিদায় নেয়া স্ট্রাইকার আকবর হোসেন রিদনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটা দল গড়ার জন্য। বিআরটিসি, আরামবাগ, চট্টগ্রাম মোহামেডান, চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকার মোহামেডান, ফরাশগঞ্জ, ফেনীর সকার ক্লাব এবং নোফেল ক্লাবে খেলেছিলেন রিদন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রিদন নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বিভিন্ন অঞ্চল হতে খেলোয়াড় বাছাই করলেন। তা ছাড়া মাইজদীতে রিদনের স্টার ফুটবল একাডেমি। কোথায় কী মানের খেলোয়াড় রয়েছে তা জানা আছে।
টুর্নামেন্ট শুরু হয় তখন নোফেল আলোচনায় ছিল না। মাত্র ১০ দিনের অনুশীলন হয়। রিদন বললেন, ‘কেউ বিশ্বাসই করতে পারিনি আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। চ্যাম্পিয়নের পেছনে রেসিপি নিয়ে বললেন রিদন, ‘অন্যান্য দলের খেলাটাকে অ্যানালাইসিস করেছি। কাউন্টার অ্যাটাক নিয়ে কাজ করেছি।’ অধিনায়ক জনী চন্দ্রশীল বিক্রম বললেন, ‘আমরা গেম ট্রেনিং করেছি। আমাদের বড়োরা পারেনি রেলিগেশন হয়েছিল। একটা জেদ ছিল আমরা পেরেছি। দশ দিনের অনুশীলনে।
নোফেলকে ট্রফি এনে দিয়েছে আরমান হোসেন আবীর। ম্যাচের ৮১ মিনিটে পিয়াসের উত্স হতে আবীর গোল করেন। আবীরকে নিয়ে সবাই হৈ হুল্লুড় করছিলেন। দলে আবীর একমাত্র খেলোয়াড় ফেনী হতে এসেছেন। ফেনী সরকারি কলেজেরে প্রথম বর্ষের ছাত্র, আলোকদিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র আবীর। দুই বছর আগে ফুটবল খেলতে শুরু করেছেন। এবারই প্রথম ঢাকায় এসেছেন। এসেই ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে গেলেন ফাইনালে গোল করে।
নোফেল ক্লাব
আবু হোরায়রা, মিসুদ, রকিব, রিফাত, ফরহাদ, তামিম, হূদয়, বিক্রম, আবীর, আনন্দ, সবুজ, রনি, রয়েল, আমিন, সাকিব, আলম, মিজান, ফাহিম, পিয়াস, মোশারফ।
সাইফ স্পোটিং
ইমন, মমিন, ইমন মোল্লা, জহির, সবুজ, রাজা, প্রান্ত, সানিয়াত, আহদ, শাকিল, তাজ, ফয়সাল, জনি, সুজয়, সুজন, ইমন, রোহান, তালহা, সবুজ, সাকিব, জাবেদ, দ্বীন ইসলাম, বাবু, ইসমাইল, জুয়েল, রিংকু, পারভেজ, মোস্তাফিজুর, আরিফুল, অনিক।
