রিয়ালের হোঁচট, জিতল সিটি, জুভেন্তাস
স্পোর্টস ডেস্ক
সের্জ গনাব্রির দ্বিতীয়ার্ধে দেওয়া ৪ গোলে বায়ার্ন মিউনিখ টটেনহ্যাম হটস্পারের মাঠে ৭-২ গোলে হেরে ইংলিশ ক্লাবটিকে অবমাননাকর পরিস্থিতিতে ফেলল। নিজ মাঠে ক্লাব ব্রুজের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্রয়ে বাধ্য হয়ে দুর্দশা অব্যাহত আছে রিয়াল মাদ্রিদের। তবে জয় পেতে সমস্যা হয়নি শিরোপাপ্রত্যাশী ম্যানচেস্টার সিটি, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, জুভেন্তাস ও পিএসজির।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাগুলোর বিচারে কোনো ইংলিশ ক্লাবের নিজ মাঠে হারের ক্ষেত্রে এটাই সবচাইতে বড়ো। গনাব্রি একাই ৪ গোল দেন। রবার্ট লেভানডোভস্কি দেন ২টি। অপরটি করে সমতা ফিরিয়েছিলেন জশুয়া কিমিচ। টানা দুই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে বায়ার্ন শীর্ষে থাকল।
অথচ দারুণ ছন্দে থাকা জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ গত মঙ্গলবার রাতের এই খেলায় শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল সন হিউং-মিনের গোলে। এরপরই আহত বাঘের জেদে জেগে ওঠে বায়ার্ন, উত্তর লন্ডনের বৃষ্টির মধ্যেই গোলের নির্দয় প্রদর্শনী দেখায়। হ্যারি কেইন ব্যবধান ৪-২ করে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা এরপর আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
বায়ার্ন কোচ নিকো কোভাচ বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মান ফুটবলের জন্য এটা ছিল অসাধারণ এক সন্ধ্যা। ইংল্যান্ডে এভাবে খেলাটা সত্যি অসাধারণ।’
গেল জুনেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে লিভারপুলের কাছে হারা টটেনহ্যাম অবশ্য আগেরবারও বাজেভাবেই শুরু করেছিল। এর আগে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল কোচ মরিচিও পচেত্তিনোর দল। হটস্পার কোচের জন্য এখন দলের মনোবল বাড়ানো বিশাল এক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর্জেন্টাইন এই কোচ অবশ্য তার দলকে অমন বাজে হারের পর সংঘবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিপক্ষের প্রশংসা করেও তিনি বলেন, ‘সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শান্ত থাকা। হুড়োহুড়ি করে কোনো মূল্যায়নে কিংবা সিদ্ধান্তে না যাওয়া। প্রথমত, মানুষ হিসেবে আপনাকে নিজের গুণপনা দেখাতে হবে। এটাকে পেশাদারিত্বের নিরিখে দেখা।’
রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের প্রথম খেলায় পিএসজির বিপক্ষে হারের পর এই রাউন্ডে ড্রয়ে বাধ্য হলো। তা-ও খেলার শেষ দিকে ক্যাসেমিরোর হেডে রক্ষা পায় কোচ জিনেদিন জিদানের দল। নইলে অতিথি ব্রুজ তাদের ক্ষিপ্র গতির স্ট্রাইকার ইমানুয়েল ডেনিসের ৯ ও ৩৯ মিনিটেই ২ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। এরকম পরিস্থিতি থেকে সার্জিও র্যামোসের গোলেই ঘুরে দাঁড়ানোর পালা শুরু করে রিয়াল। তারপর ৮৫ মিনিটে আসে ক্যাসেমিরোর গোলটি।
এই ড্রয়ে দুই খেলা শেষে কেবল ১ পয়েন্ট রিয়ালের। গালাতাসারায়ের বিরুদ্ধে ১-০ জয়ে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজির হয়ে গোলটি দেন মাউরো ইকার্ডি। পিএসজি এখন ‘এ’ গ্রুপে টানা দুই জয়ে শীর্ষে ঠাঁই নিল। চার দলের গ্রুপে রিয়াল সবার নিচে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এদিন চ্যাম্পিয়নস লিগে তার প্রথম গোলটি করেন। তাতে জুভেন্তাস নিজেদের মাঠে বেয়ার লেভারকুসেনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ী হয়। তুরিনে দলের হয়ে ৮৯তম মিনিটে গোলটি করেন পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। ইউরোপীয় এই প্রতিযোগিতায় রোনালদোর এই গোলটি হলো রোনালদো রেকর্ড স্ফীত করা ১২৭তম গোল।
জুভেন্তাস এই জয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে। জুভেন্তাসের অপর ২টি গোল দেন গঞ্জালো হিগুয়েন ও ফেডেরিকো। কোচ দিয়েগো সিমিওনির অ্যাটলেটিকে এই রাউন্ডে লোকোমোটিভ মস্কোর মাঠে ২-০ গোলে জয়ী হয়। হোয়াও ফেলিক্স ও থমাস পার্টে গোল ২টি দেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেলিক্সের এটি প্রথম গোল। ম্যানচেস্টার সিটি এদিন রাহিম স্টার্লিং ও ফিল ফোডেনের গোলে ডায়নামো জাগরেবকে ২-০তে জিতে শেষ ষোলর দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। টানা দুই জয়ে ‘সি’ গ্রুপে কোচ পেপ গার্দিওলার দলই এখন শীর্ষে।
এক নজরে
রিয়াল মাদ্রিদ ২-২ ক্লাব ব্রুজ
আটলান্টা ১-২ শাখতার দোনেত্স্ক
গ্যালাতাসারায় ০-১ পিএসজি
টটেনহ্যাম ২-৭ বায়ার্ন মিউনিখ
রেডস্টার বেলগ্রেড ৩-১ অলিমিপয়াকোস
ম্যানচেস্টার সিটি ২-০ ডায়নামো জাগরেব
জুভেন্তাস ৩-০ বেয়ার লেভারকুসেন
লোকোমোটিভ মস্কো ০-২ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
