আমরা ঠিক কতটা পরনির্ভরশীল

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১০

আমিনুল ইসলাম আশিক

পুস্তকগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন। মানতে কষ্ট হলেও এটা সত্যি যে, আমাদের দেশ এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই “পরহস্তে ধন” কথাটির সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে যেটি ক্রমশই দৃশ্যমান। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের এক সপ্তাহের ব্যবধানেই কেজিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আমরা এই নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে অনেকটাই পরনির্ভরশীল!!

বিএসটিআই-এর হিসেব মতে, বাংলাদেশ মোট ১৮১টি আমদানিকৃত বাধ্যতামূলক পণ্য প্রতি বছর বিএসটিআই-এর অনুমোদন পেয়ে থাকে। যার মধ্যে কৃষিজাত ও খাদ্যপণ্যই রয়েছে ৯৫টি এবং বেশির ভাগই রয়েছে মশলা জাতীয় খাদ্যদ্রব্য। তার মানে হলো এখনো পর্যন্ত আমরা পেঁয়াজ, রসুন, আদা প্রভৃতি পণ্যের জন্য প্রতিবেশী দেশের প্রতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। শুধু যে আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রেই আমরা পরনির্ভরশীল তা কিন্তু নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রপ্তানিতেও আমরা হয়ে পড়ছি পরনির্ভরশীল। বাংলাদেশের সবচাইতে বড়ো রপ্তানি খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক খাত এবং সবচাইতে বড়ো রপ্তানি বাজার হচ্ছে ইউরোপ এবং আমেরিকায়। অথচ বাংলাদেশের এই খাতটিতে এখনো উন্নত প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়নি, এই খাতে আমরা এখনো কাজে লাগাচ্ছি চীনা প্রযুক্তি এবং চীনের প্রকৌশলীদেরকে। অপরদিকে চীন তার নিজ দেশের তরুণ মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের তৈরি পোশাক শিল্পকে ত্বরান্বিত করার জন্য আরো উন্নত প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার হাতছাড়া হবার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে তৈরি এই সব পোশাকের ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশ চাহিদা থাকলেও নেই বাংলাদেশের বাজারে। এদেশের সাধারণ ক্রেতাদের এখনো ভারতীয় শাড়ি আর পাকিস্তানি পোশাকের প্রতি ঝোঁক একটু বেশিই দেখা যায়। সেখানে টাঙ্গাইল, তাঁতের কদর কতটুকুই বা। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রেও বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোই বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। নিজ দেশের মানুষের কাছেই যেখানে আস্থা অর্জন করতে পারছে না, সেখানে একবার যদি বিদেশের ভোক্তাবাজার হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তির উপায় কি? সহজভাবে বলতে গেলে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোই হতে পারে এই পরনির্ভরশীলতা কাটানোর একমাত্র উপায়। চীনের মতো আমরাও যদি নিজের দেশের তরুণদের মেধার মূল্য দিতে পারি, প্রযুক্তি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারি, তবে সেই প্রযুক্তিই আমাদের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে। সর্বোপরি আমাদের আত্মনির্ভরশীলতাই পারে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাসের সম্ভাবনা রোধ করতে।

n লেখক : শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়