ঘুম ভাঙে ডানা ঝাপটানোর শব্দে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৭

গাছে গাছে শামুকখোল

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের সকালের ঘুম ভাঙে পাখির ডাক আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে। থানা চত্বর ও বাজারের একটি অংশের গাছে গাছে হাজার হাজার শামুকখোল পাখি বাসা বেঁধেছে। এখানে প্রজননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে চলেছে  এই পাখিগুলো। উপজেলা শহরটি থেকে এক কিলোমিটার অদূরে রয়েছে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সেচ ক্যানেল ও যমুনেশ্বরী ও চারালকাটা নদী। এছাড়া উপজেলা জুড়ে রয়েছে বড়ো ধরনের বেশ কয়েকটি  বিল ও মজা পুকুর। আর বাজার এলাকায় রয়েছে বড়ো বড়ো বিশাল শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, কড়াই, মেহগনি ও জামগাছ। চার  বছর থেকে  গাছে শামুকখোল পাখি বাসা বাঁধতে শুরু করে। প্রথমদিকে আসা-যাওয়া করতে থাকলেও এখন তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। নিয়মিত প্রজননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধিও করছে। খুব ভোরে এরা খাদ্যের সন্ধানে দল বেঁধে উড়ে বেড়ায় যেখানে-সেখানে। সন্ধ্যার আগেই আবার নীড়ে ফিরতে শুরু করে। বর্তমানে এখানে পাখির সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। শুধু এলাকাবাসী নয়, উপজেলা পরিষদ এবং কিশোরগঞ্জ থানার পুলিশসহ এলাকার সকলেই উপজেলা শহরটিতে পাখি সংরক্ষণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাখিগুলো যাতে কোনোভাবেই নিধন করা না হয় এজন্য উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশ পাখি শিকার কঠোরভাবে দমন করেছে।

কিশোরগঞ্জ হাটের ইজারাদার এমদাদুল মিয়া জানান, ভিনদেশি এই পাখিরা এখন এলাকাটিতে তাদের নিরাপদ স্থান মনে করে। তিনি বলেন, জনবসতি লোক সমাগম বেশি হয় হাটবাজারে। এরই মাঝে আমরা বিভিন্ন নিয়মকানুন চালু করে পাখিগুলোকে অভয়ারণ্য আস্তানা দিতে সক্ষম হয়েছি। কিশোরগঞ্জ হাট ও বাজারের পুরোনো বাইসাইকেল, মুরগি, হাঁস ও কবুতর বিক্রির স্থানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পাখিগুলোকে নিরাপদে রাখার জন্য।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, শহরের ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো যানবাহন যাতে উচ্চশব্দ করে হর্ণ না বাজায় সেজন্য  রাস্তায় রাস্তায় প্রচারণার কথাগুলো টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাখি শিকার কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। ফলে  থানা চত্বরের ভেতরে ও বাইরে একাধিক গাছে শামুকখোল পাখি যেন তাদের স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেশ কিছু পাখি আছে। এগুলো বিলুপ্ত প্রজাতির। পাশে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেল থাকায় পাখিগুলো এখানে নিরাপদে আশ্রয়ের জন্য এসেছে। শিকারিরা যাতে পাখিগুলো শিকার করতে না পারে, এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাখিগুলো যাতে ভবিষ্যতেও এখানে নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যাপারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।