বগুড়া পৌর হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৯

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়া শহরের বসতবাড়ির মালিকদের কাছ থেকে ট্যাক্স হিসেবে আদায় করা ৯০ লাখ টাকা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলেমিশে আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরপরই পৌর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

দুদকের তত্পরতার মুখে ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বগুড়া পৌরসভার তত্কালীন এক সচিবকে বদলি, কর বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং চুক্তি-ভিত্তিক অপর ছয় কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দুদকের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি পৌর কর বিভাগের তিন কর্মকর্তার সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে। এসব তত্পরতার মুখে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আত্মসাত্ করা ৬৭ লাখ টাকা ফেরতও দেওয়া হয়েছে।

দুদকের সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল থেকে ঐ অপকর্ম চলেছে। আর পৌরসভার কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে পরবর্তী দুই বছর ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে এ অপকর্মে ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা মিলেছে। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে নয়জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া পৌরসভার তত্কালীন সচিব ইমরোজ মুজিবকে ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট জেলার শেরপুর পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে। এর তিন মাস পর ৮ নভেম্বর পৌরসভার বাজার আদায়কারী এ কে এম আকিল আহম্মেদ মোমিন ও সহকারী কর নির্ধারক রায়হানুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর আলমগীর রহমান, মশিউর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, বেলাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন ও মাসুদ সরকার কনকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

সংস্থাটির কর বিভাগের আরো ছয় কর্মকর্তা শফিউল আলম, জামিল মজুমদার, জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর রহমান, হেফজুল বারী ও সারওয়ার জাহানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি দুদক খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য অভিযুক্ত ১৫ জন চলতি বছরে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৭ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৭ টাকা ফেরত দিয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তরা দুই ভাবে ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত্ করেছেন। প্রথমত, তারা রসিদ বইয়ের গ্রাহকের কপিতে জমা করা টাকার পরিমাণ সঠিক লিখলেও নিচের কার্বন কপিতে কম লিখতেন। দ্বিতীয়ত, ভুয়া জমা বই ছাপিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা পুরো টাকাই নিজেদের পকেটে ভরতেন। এভাবে আত্মসাত্ করা টাকা অভিযুক্তরা নির্ধারিত পার্সেন্টেজে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতেন।

বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র শামছুদ্দিন শেখ হেলাল বলেন, ‘কর শাখায় যে দুর্নীতি হচ্ছে সেটা প্রথমদিকে তারা বুঝতে পারেননি। একদিন এক দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বাসায় গিয়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তার সন্দেহ হয়। অনুসন্ধান করে জানতে পারলাম, তারা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত্ করে আসছে।’

শামছুদ্দিন শেখ হেলাল বলেন, ‘ঐ ঘটনার আর যাতে কোনো দুর্নীতি না হয় সেজন্য আমরা পৌরসভায় ব্যাংকের বুথ স্থাপন করে তাতে ট্যাক্সের টাকা জমার ব্যবস্থা করেছি।’

দুদক বগুড়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। আমরা মামলার জন্য সবকিছু চূড়ান্ত করছি।’

বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের ঐ ঘটনা বিলম্বে জানতে পারলেও প্রাথমিক তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, বগুড়া পৌরসভার তত্কালীন সচিব ইমরোজ মুজিব ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম বলেই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।