চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে নগরে প্রবেশের সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ৮ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এই সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন, বাইরে থেকে কেউ বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে নগরে প্রবেশ করার সময় নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে দুইটি গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারে না। চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো প্রতিষ্ঠা হলে বিমানবন্দর ও বন্দরের সক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে। সেই পরিকল্পনায় বিমানবন্দর সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
চসিকের প্রকৌশলীরা জানান, নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং থেকে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি হয়ে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী অংশ চার লেনে উন্নীত হলে যানজট কমবে। এছাড়া স্লটার হাউজ নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশগত উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা করা যাবে। চসিক, আইএমইডি ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাাবিত প্রকল্পে সড়কের দৈর্ঘ্য—সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে ড্রাইডক লিমিটেড পর্যন্ত ৩.৭১ কিলোমিটার, বোট ক্লাব থেকে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৩.২৮ কিলোমিটার। প্রায় সাত কিলোমিটার চার লেন করবে চসিক। আর ড্রাইডক লিমিটেড থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ১.৩৯ কিলোমিটার অংশ ছয় লেন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি প্রয়োজন হবে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ২১৮ বর্গফুট। রেললাইন স্থানান্তরের জন্য জমির লাগবে ২০ হাজার বর্গফুট।
‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন ও স্লটার হাউজ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের জায়গা নিয়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসসি গ্রেইন কনভেইয়ার, সেইলো, টিএসপি কমপ্লেক্স, ইলিয়াস ব্রাদার্স, ওয়েল রিফাইনারি (ভোট), আবুল খায়ের গ্রুপ, যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, সাউথ ইস্টার্ন ট্যাংক টার্মিনাল, স্টান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি, এমজেএল বাংলাদেশ, ড্রাইডক, বাটারফ্লাই পার্ককে সড়কের জন্য জায়গা ছাড়তে হবে।
এ বিষয়ে চসিক মেয়র জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে চসিকের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তারা সবাই সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানও এই ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরেই প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
