ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের কারণে চট্টগ্রামে ক্রীড়া ক্লাবসমূহে জুয়াসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে থাকে। বছরের পর বছর নির্বাচন না থাকায় ক্লাবগুলোতে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। গুটিকয়েক ব্যক্তিই ক্লাবের দীর্ঘ দিনের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর ক্লাব পরিচালনা নির্ভর করে। এতে দেখা যায়, অর্থ-বিত্তের মালিকরাই রাতারাতি ক্লাবগুলোর উচ্চপদে কিংবা বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব পেয়ে যান। চট্টগ্রামে প্রথম সারির ক্লাবগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র আবাহনী, মোহামেডান, ফ্রেন্ডস ক্লাব, শতদল ক্লাব ছাড়া আর তেমন কোনো ক্লাবের ঘর নেই। এর মধ্যে ফ্রেন্ডস ক্লাবেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়ে থাকে। বাকিদের ক্ষেত্রে কোনো নজির দেখা যায় না।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) এর তালিকাভুক্ত শতাধিক ক্লাব থাকলেও বিভিন্ন সময় তাদের সাথে পত্র যোগাযোগ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ঠিকানায় হয়ে থাকে। এই বিরাট সংখ্যক ক্লাবের মধ্যে অধিকাংশই প্যাড সর্বস্ব। ক্লাবসমূহের নিজস্ব ক্লাব ঘর না থাকা এবং খেলাধুলার ক্ষেত্র সৃষ্টি না হওয়ার পেছনে আর্থিক বিষয়কে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবার ঘর থাকা ক্লাবগুলোতে তাস-জুয়াসহ অসামাজিক কাজ চলার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ক্যাসিনো, জুয়া ও মদের যে বিশাল সমাহার ক্লাবগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পেয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে অভিযান পরিচালিত হয়। চট্টগ্রামে অন্যান্য ক্রীড়া ক্লাবের তুলনায় আবাহনী ক্লাব জাতীয় পর্যায়ে ও নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া বিশাল মাঠ ও স্থান নিয়ে আবাহনী ক্লাবের অবস্থান হলেও এর মাঠের যেমন কোনো উন্নয়ন নেই। একইভাবে নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। শুধুমাত্র কয়েকটি কক্ষের ঘর নিয়ে তাস-জুয়া খেলাসহ নিয়মিত অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এটি অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
