নৌবাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর মর্যাদা পেয়েছে :রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২২

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নৌবহরে সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের নৌ-সদস্যগণ মহান দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর খালিশপুরে বিএনএস তিতুমীরে বানৌজা তিতুমীরকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অসামান্য অবদানে আজ আমরা একটি স্বাধীন ও স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক ও চৌকস নৌবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরপরই তিনি ভারত ও যুগোস্লাভিয়া থেকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করে দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে দ্য টেরিটরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোন্স অ্যাক্ট প্রণয়ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নৌ-ঘাঁটি হিসাবে বানৌজা তিতুমীর বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে খুলনা নৌ-অঞ্চলে অবস্থিত অন্যান্য ঘাঁটি এবং জাহাজসমূহের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (সোলাম) এবং নেভাল প্রভোস্ট অ্যান্ড রেগুলেটিং স্কুল নাবিকদের বিভিন্ন পেশাগত উত্কর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করে চলেছে।

আবদুল হামিদ বলেন, নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রয়োজন ছাড়াও এই ঘাঁটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের দিকনিদের্শনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে থাকে। দেশ গঠনমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বানৌজা তিতুমীরকে আজ ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হলো; যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, নৌ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের নৌ কমান্ডোসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।