রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিন যাবত্ দৌলতদিয়া ইউনিয়নের লালু মণ্ডলপাড়া, নতুনপাড়া, বেপারীপাড়া ও হাতেম মণ্ডলপাড়া গ্রাম এলাকায় নদীভাঙন চলছে। বুধবার ভোর থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ পাশের সিদ্দিক কাজীরপাড়া গ্রাম এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে হাত থেকে রক্ষা পেতে ঐ গ্রামবাসীদের অনেকে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে, গাছপালা কেঁটে, পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ফেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছেন।
এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পদ্মা নদীতে সে াতের তীব্রতা কমেনি। প্রবল সে াতের মুখে চলাচলকারী ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। সেখানে পারাপারে প্রায় দ্বিগুণ সময় বেশি লাগছে। এতে ফেরির ট্রিপসংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীর পাড় ভাঙন শুরু হওয়ায় এক ও দুই নম্বর ঘাট দুটি বন্ধ রয়েছে। এতে নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাট সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে, চালু থাকা অপর চারটি ঘাট দিয়ে এখন কোনো রকমে বিভিন্ন গাড়ি ফেরিপারাপার করা হচ্ছে। সেখানে স্রোতের পাশাপাশি ঘাট সংকটের কারণে ফেরি সার্ভিস ব্যাহত হওয়ায় বুধবার দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ঢাকাগামী কয়েকশ বিভিন্ন গাড়ি। এদিকে আরিচা অঞ্চলের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার সকালে পদ্মায় প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে লঞ্চ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে ঐ দিন বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। টানা ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বুধবার সকাল ৬টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সীমিত আকারে লঞ্চসার্ভিস চালু করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ীর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার জানান, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ উপজেলা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার প্রচণ্ড স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের এক ও দুই নম্বর ঘাট দুটি ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ঐ ঘাট দুটি রক্ষায় সেখানে বালুভরা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পাউবো। তিনি আরো জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপত্সীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
