বহুল আলোচিত যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার জি কে শামীমকে অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং মামলায় ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম শুনানি শেষে অর্থপাচার আইনের মামলায় পাঁচ দিনের এবং অস্ত্র আইনের মামলায় আরো চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে জি কে শামীমের অর্থপাচার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ ১০ দিন এবং অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
অর্থপাচার মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনের মামলা ছাড়াও অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে। র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে চালানো অভিযানে জি কে শামীমের অফিসের লোহার সিন্দুক থেকে নগদ অর্থ, চেক বই, এফডিআর ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও ৯ হাজার ইউএস ডলার পাওয়া যায়। এছাড়া আসামির মায়ের নামে ১০টি এফডিআরে মোট ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ ৩৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও চেক বইয়ের পাতা জব্দ করা হয়। র্যাবের নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অর্থপাচার আইনে এ মামলাটি করেন।
অস্ত্র মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকাশ পায় যে, এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক ও জুয়া ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা (জি কে শামীমের সাত দেহরক্ষী) দীর্ঘদিন ধরে নিজ নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রকাশ্যে বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করেন। টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল, গরুর হাটে চাঁদাবাজি করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও ব্যাপক তদন্তের প্রয়োজন আছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
বুকের ব্যথায় কাঠগড়ায় বসে
পড়লেন জি কে শামীম
গতকাল ১০ দিনের রিমান্ড শেষে এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে কাঠগড়ায় তোলা হলে এর মিনিটখানেক পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে তিনি বসে পড়েন। এ সময় তাকে বুক চেপে ধরতে দেখা যায়। পুলিশ সদস্যদের দেখা যায় একটা ওষুধের বাক্স নিয়ে আসতে। এ সময় ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম জানতে চান, কী ওষুধ দিচ্ছেন ওনাকে? উত্তরে পুলিশ জানায়, তিনি হূদরোগে আক্রান্ত, রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে আনার সময় র্যাব ওষুধগুলো নিয়ে এসেছে। বিচারক তখন ওষুধগুলো দেখতে চান। পুলিশ বিচারককে ওষুধগুলো দেখান। এ সময় জি কে শামীমের আইনজীবীরা বলেন, তিনি অসুস্থ। বিএসএমএমইউতে তার চিকিত্সার জন্য আমরা আবেদন করেছি।
এদিন আদালতে শামীমের আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান হাওলাদার ও ঢাকা বারের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান রচি প্রমুখ। আইনজীবীরা শুনানি দীর্ঘায়িত করতে চাইলে বিচারক বলেন, আসামি নিজেই অসুস্থবোধ করছেন তাই আপনারা শুনানি দীর্ঘ করবেন না। এরপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মানি লন্ডারিং মামলায় পাঁচ দিন ও অস্ত্র মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে জি কে শামীমকে সাত দেহরক্ষীসহ আটক করে র্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচার আইনে তিনটি মামলা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমের অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
