সোহাগ মনি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীর চর্চার একটি প্ল্যাটফর্ম এই ‘সুপ্রভাত’। যেখান থেকে গড়ে উঠে সুস্থ দেহ, আর সুস্থ মানসিকতা। প্রভাতের প্রথম আলোতেই শুরু হয় পথ চলা, দিনের সবটা যেন এমন আলোকিতই হয়ে উঠে প্রত্যাশা সকলের এরকমই। সূর্যের উদয়নের সাথে সাথে জমতে থাকে সচেতন কিছু মানুষ। ভোরে প্রথম আলোটাকে তারা উপভোগ করেন। উপভোগ করেন জীবনও। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ কিছু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে শহীদ মিনারের প্রান্তর। সেই সাথে থাকে স্বাস্থ্য সচেতন কিছু বয়স্ক মানুষও। শরীর চর্চার উদ্দেশে বেরিয়ে পরা এই মানুষগুলো চর্চা করেন মনেরও। শুরু হয়ে যায় লেফট, রাইটসহ নানা রকমের ব্যায়াম। সেই সাথে থাকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ।
শরীরের পাশাপাশি মনকে আরো কার্যোপযোগী করে তুলতে এখানে হয় মনোসংযোগ ঘটানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়া। যাকে বলা হয় মেডিটেশন। এতে সুস্থ মানসিকতার চর্চাও হয়ে উঠে। জীবনের গ্লানি, আর হতাশাকে মুছে দিতে চলে এমন মেডিটেশন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও আসে এমন পরিবেশের স্বাদ গ্রহণ করতে। শিক্ষকরাও যেন বন্ধুর মতো মেতে উঠে শিক্ষার্থীদের সাথে। বাংলা বিভাগের নাহিদা নাহিদ ম্যাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাহবুবুল হক ভূঁইয়া স্যার ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন সুপ্রভাতে।
সুপ্রভাতকে সবার কাছে সমাদৃত করে তুলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন। তিনিই প্রথমে পরিকল্পনায় আনেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপ্রভাতের মতো শরীরচর্চা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার। সুপ্রভাতের আলো সবার শরীর এবং মনে ছোঁয়া লাগানোর পথিকৃত্ এই প্রকৃতি ও জীবনপ্রেমী শিক্ষকেরই।
সুপ্রভাত নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও যেন আগ্রহের কমতি নেই। সুপ্রভাতকে ভালোবেসে সবাই যেন একই মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী আফসানা রিতু তার অভিব্যক্তিতে জানান, ‘আমি সব সময়ই চাইতাম এমন শরীর চর্চার সংগঠন হোক, আগে শরীরচর্চা করলেও সবাই বিচ্ছিন্নভাবে করতে হতো, এখন সবাই একই গন্ডিতে মিলিতো হতে পারি।
